৬ লক্ষ ১২ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন দুলাভাই নামে খ্যাত গরিবের ডাক্তার মংফো

প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২০

৬ লক্ষ ১২ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন দুলাভাই নামে খ্যাত গরিবের ডাক্তার মংফো
মোঃ হাইরাজ বরগুনা প্রতিনিধি :-  তালতলীর মানবতার ফেরিওয়ালা দুলাভাই নামে খ্যাত গরিবের ডাক্তার মংফো। ২০০২সালে চিকিৎসা জগতে পা দিয়েই নিজের জীবনটা বিলিয়ে দিয়েছেন মানব সেবায়। তালতলীতে গরীবের ডাক্তার নামে পরিচিত তিনি। গত ১৮ বছরে ৬ লক্ষ ১২ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন। এখনও অব্যাহত রেখেছেন তার মানবতার কাজ। একজন ভালো চিকিৎসক হিসেবে রয়েছে তার সুনাম। নাম ডাং মংফো । একজন গরীবের ডাক্তার। কারো অসুস্থর খবর পেলেই , দিনরাত, ঝড় বৃষ্টি কিছুই মানেনা ছুটে চলেন তালতলীর আনাচে কানাচে। সাদামাঠা এ মানুষটি রোগীদের কথা শোনেন মনোযোগ সহকারে। নিজের পাইলস অপারেশন করার পরেও বিছানায় শুয়ে শুয়ে রোগী দেখছেন তিনি। তার হাতে রয়েছে যাদু। বড়বগী ইউনিয়নের নাওভাঙা গ্রামের শাহজাহান ভেন্ডার(৮০) বলেন একদিন আষাঢ় মাসে রাইতে মুই অসুস্থ অইয়া পরছি, এই রাইতে কাদাকোদা ভাইঙা ডাক্তার মংফো আইছে। রাইত বিরাইতে ডাকলে মোরা মংফোরে পাই। মংফো আছে বলেই মোরা বেঁচে আছি। তালতলী সরকারি হাসপাতালের সদ্য বদলী হয়ে যাওয়া ডাঃ মোঃ মেজবাহ উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তালতলী উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মংফো একজন ভালো চিকিৎসক ভালোমনের মানুষ। দীর্ঘ ৯ বছর তিনি তালতলী উপজেলায় একাই চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন। তার সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তার চিকিৎসা সেবার বয়স ১৮ বছর হলো। এখনো ছুটে চলেন মানব সেবায়, তার কাছ থেকে অনেক কিছু সেখার রয়েছে। চিকিৎসকরা নিজের কথা চিন্তা করতে পারেনা, তারা মানুষের কথা চিন্তা করে, মানব সেবার কথা চিন্তা করে। তালতলী বাসী খুব লাকী তার মত একজন চিকিৎসক তারা পেয়েছে। ডাঃ মংফো বলেন মানব সেবাই আমার মুল ব্রত। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন দিন মানুষের সেবা করে যাব। গরীব ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা দিতে না পারলে আমি মানষিকভাবে সুস্থ থাকি না। মানুষের সেবা করেই আমি আত্মতৃপ্তি পাই। মানব সেবা যেন আমার জীবনের একটি বড় অংশে পরিনত হয়েছে। আমার কাছে যখন গভীর রাতে মানুষ আসে আমি চিন্তা করি আমার কোন স্বজন অসুস্থ হলে আমি কি বসে থাকতাম? এই চিন্তা করেই ২৪ ঘন্টা মানব সেবায় রয়েছি। আমি মানুষের মাঝে সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে পাই । তাই যতিদিন বেঁচে আছি, আমি মানুষের সেবা করে যাব।

Pin It on Pinterest