কাদিয়ানিদের রাস্ট্রীয় ভাবে কাফের ঘোষনা করতে হবে -আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯

আপেল মাহমুদ(শাওন) ভোলা প্রতিনিধি।। হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারি দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি পরিচালক শাইখুল হাদিস আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন সারা বিশ্বে আলেম ওলামাদের সম্মিলিত ঐক্যমতে ভিত্তিতে কাদিয়ানিরা কাফের। যারা খতামুন নাবিয়্যাত বা মুহাম্মদ (সঃ) কে শেষ নবী মনে করেনা তারা সকল ঈমামগনের ঐক্যমতের ভিত্তিতে, সকল মাজহাবের ঐক্যমতের ভিত্তিতে কাফের। যেহেতু কাদিয়ানিরা কাফের মানে অমুসলিম, কিন্তু এরা মুসলিম নাম ধারন করে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ থেকে পবিত্র মক্কা মদিনা সহ পৃথিবির বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মুসলিম সেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরল সহজ মুসলমানের ঈমান ধংস্ব করে। তাই এদেরকে রাষ্ট্রিয় ভাবে কাফের ঘোষনা করতে হবে। যাতে এরা মুসলিম নাম নিয়ে হজ্ব পালন সহ কোথায় কোন সুযোগ সুবিধা না পায়। যারা কাদিয়ানেদের কাফের মনে করবেনা , তাদের মত আক্বিদা পোষন করবে তারও নিঃসন্দেহে কাফের।এসময় তিনি সম্মেলনে উপস্থিত সকল মুসল্লি ,সুশিল সমাজ, আলেম ওলামা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেন নেতৃবিন্দের পক্ষে হতে সরকারের কাছে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রিয় ভাবে কাফের ঘোষনার দাবি জানান। রবিবার(২২ ডিসেম্বর) ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে ইত্তেহাদুল ওলামাইল মাদারিসিল ক্বওমিয়া (আঞ্চলিক ক্বওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড) কতৃক আয়োজিত ইসলামীক মহাসম্মেলনে তিনি একথা বলেন। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন বর্তমানে সারা বিশ্বে মুসলমানদের নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। ভারতে বাবরি মসজিদের স্থানে হিন্দুত্ববাদি মোদি সরকার রাম মন্দির নির্মানের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাবরি মসজিদ ৫০০ বছরের পুরাতন মসজিদ। এখানে কোন কালেই রাম মন্দির ছিল না।মোঘল আমলে ভারতের সমস্থ হিন্দু রাজারা এই বাবরি মসজিদ কে মসজিদ হিসেবে মেনে নিয়েছে, বৃটিশ আমলে ভারতের সমস্থ হিন্দু রাজা ও জমিদারেরা এটাকে মসজিদ হিসেবে মেনে নিয়েছে স্বাধিন ভারতে মহত্বা গান্ধি, জহরলাল নেহেরু, লালবাহদুর শা¯্রি সহ অনেক হিন্দু নেতারা এই বাবরি মসজিদ কে মসজিদ হিসেবে মেনে নিয়েছে সেখানে মোদি সরকার এই মসজিদের স্থানে রাম মন্দির প্রতিস্থা করতে চায়।আমার আশংখা হয় আল্লাহ আবরাহা বাদশার ঘটনার মত গায়েবি গজব দিয়ে মোদি কে ধংশ করে কিনা। নরোওতে খিষ্টান সন্ত্রাসি কুরআনে আগুন দেয় । ইলিয়াস নামে এক মুসলিম যুবক কুরআন কে হেফাজত করতে এগিয়ে আসে । নরওয়ের সরকার অপরাধি খৃষ্টানকে আইনের আওতায় না এনে উল্টো মুসলিম যুবক কে গ্রেফতার করে। হেফাজত ইসলামের কার্যক্রম অরাজনৈতিক উল্লোখ করে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন ,আমাদের আন্দোলন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয় । কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো বা বসানোর জন্য নয়। আমাদের আন্দোলন ইসলামের জন্য। আল্লাহ, তার রাসুল (স:) এবং তার মনোনিত দ্বীন ইসলামের হেফজতের জন্য। এসময় তিনি সংসদে আল্লাহ, তার রাসুল,কুরআন এবং ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ড বিধান রেখে সংসদে আইন পাশের দাবি জানান। এসময় তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিনে নবী (স:) এর মর্যাদা রক্ষায় শহীদের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করে নবী (স:) এর কটুক্তিকারিদের এবং সেদিনের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেন । ইত্তেহাদুল ওলামাইল মাদারিসিল ক্বওমিয়া (আঞ্চলিক ক্বওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড) এর সভাপতি মাও: আনাসের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন রাবেয়াতুল ওয়ায়েজিন এর সভাপতি আল্লামা আবদুল বাসেদ খান, আল্লামা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবি , বাইতুল মোকারম মসজিদের খতিব মাও: মিজানুর রহমান ,চরমোনাই ইউপি চেয়ারম্যান মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, শায়খ তাহমিদুল মাওলা, মুফতি ইয়াসিন নবীপুরি । এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, ইত্তেহাদের সম্পাদক মাও: বশির উদ্দিন , ঈমান আকিদ্বা সংরক্ষন কমিটির সম্পাদক মাও: তাজউদ্দিন ফারুকি, মাও: রাকিবুল ইসলাম ফারুকি প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তানজিুমুল কুরআন মাদরাসার পরিচালন মাও: তরিকুল ইসলাম ও মাও: মোসলেহউদ্দিন । সম্মেলনে ইত্তেহাদুল ওলামাইল মাদারিসিল ক্বওমিয়ার সহ সভাপতি মাও: সিদ্দিকুর রহমান, ভোলা সদর উপজেলা সভাপতি মাও: আবদুল খালেক , সম্পাদক মাও: কামাল উদ্দিন কাশেমি সহ ভোলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসার আলেমওলামা , ছাত্র সহ ধর্মপ্রান মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest