ইচ্ছেমতো অফিস করেন কর্মকর্তারা দুমকি ভূমি অফিসে ৫শ’ টাকার দাখিলায় ১০হাজার টাকা দাবি হয়রানীর শিকার সেবা প্রত্যাশীরা।

প্রকাশিত: ৫:০৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

ইচ্ছেমতো অফিস করেন কর্মকর্তারা দুমকি ভূমি অফিসে  ৫শ’ টাকার দাখিলায় ১০হাজার টাকা দাবি হয়রানীর শিকার সেবা প্রত্যাশীরা।

মোঃ জসিম উদ্দিন দুমকি(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি \ পটুয়াখালীর দুমকিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিস যেন দূর্ণীরি আখড়ায় পরিনত হয়েছে। টাকা ছাড়া সৌজন্য আলোচনাও করতে নারাজ অফিসের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি লেবুখালী ইউনিয়ন ভূমি (তহশিল) অফিসে জমির খাজনা পরিশোধ করতে আসা ভুক্তভোগীরা ওই অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা করছেন না ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ৯-৫টা অফিসের সময়-সূচি থাকলেও তারা অফিস করছেন খেয়াল-খুশিমত। ফলে ইউনিয়ন ভূমি (তহসিল) অফিসে সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ কাঙ্খিত সেবা পাওয়ার স্থলে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বেশী। অফিযোগ আছে, দৈনন্দিন সরকারী কাজ-কর্ম ফেলে রেখে অনৈতিক আয়ের কাজে সময় দেয়ায় অফিসের কাজ পেন্ডিং থেকে যাচ্ছে, আর এতেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রধান কর্মকর্তা (তহসিলদার) অকপটে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বার বার তাদের (সহ-কারী তহসিলদার) তাগিদ দেয়া হলেও কথা শুনছেন না তারা। গতকাল সোমবার সকাল ১০ টায় সরেজমিনে লেবুখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। সকাল ১০টায় ১জন কর্মকর্তাও অফিসে আসেন নি। ২জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী অফিস খুলে বসে আছেন। জিজ্ঞেস করলে বলেন, স্যার, ম্যাডামরা এখনও কেউ আসেন নি। বেলা ১০ টা ২০ মিনিটে হেড তহসিলদার মো: সেলিম খান অফিসে আসেন। এর ৪০মিনিট পরে অফিসে হাজির হন সহকারী তহসিলদার শিমুল পাইন শান্তা। অপর দু’সহকারী তহসিলদার তারিকুল ইসলাম ও আকলিমা বেগম অনুপস্থিত রয়েছেন। সামনে দেখা গেলে বেশ কয়েকজন সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করছেন। শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দুমকি মৌজার জনৈক সেকান্দার হাওলাদার (৭০) জানান, ৩দিন যাবৎ দাখিলার জন্য ঘুরছেন। সংশ্লিষ্ট সহকারী তহসিলদার শিমুল পাইন শান্তার কাছে তার কাজ আটকে রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ কওে বলেন, শান্তা মেডাম ৫শ’টাকার দাখিলার জন্য ১০হাজার টাকা দাবি করেছেন। দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় তাকেঁ আজ নয়, কাল দেব বলে ঘুরানো হচ্ছে। ১০টাকার সাড়ে ৩শতাংশ জমির খাজনার দাখিলা নিতে গেলে পাংগাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা আকাশ (২০) নামের এক যুবককে মূল খতিয়ানের পর্চ্চা চেয়ে ফেরত দেয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিক সহকারী তহসিলদার তারেকের লাগাতার অনুপস্থিতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, মিউটেশন কেসগুলো আটকে থাকায় অনেক মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। টাকা দাবির অভিযোগ অস্বিকার করে সহকারী তহসিলদার শিমুল পাইন শান্তা বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যে তার কছে অতিরিক্ত কোন টাকা দাবি করা হয়নি। এ বিষয়ে তহসিলদার সেলিম খান বলেন, প্লিজ নিউজ করলে আমাকে জরাবেন না কারন তাহলে উপর থেকে আমার উপর চাপ আসবে। দুমকি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আল-ইমরান বলেন, নির্ধারিত টাকা ছাড়া বাড়তি টাকা আদায়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ও নিদ্রিষ্ঠ সময়ে অফিসে না আসলে সংশ্ল্ষ্টি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠর ব্যবস্থা নেয়া হবে। 


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest