রাঙ্গাবালীতে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে মাদরাসার নামে বই বরাদ্দ!

প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২০

রাঙ্গাবালীতে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে মাদরাসার নামে বই বরাদ্দ!

মোঃমনিরুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বুধবার সকাল পৌনে ১১টা। উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে বই উৎসব চলছিল। তখনো আমলিবাড়িয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শিক্ষার্থীদের উৎসব আমেজ তো দূরের কথা, প্রতিষ্ঠানে কোনো চেয়ার-টেবিলই নেই। প্রতিষ্ঠানটির মাঠে স্থানীয় কৃষকদের আঁটি বাঁধা ধানের স্তুপ চোখে পড়ে। হয়নি জাতীয় পতাকা উত্তোলন। পুরো প্রতিষ্ঠান একদম ফাঁকা এবং জনশূন্য নীরবতা। কারণ ওই প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রমই কাগজে কলমে।
সরেজমিনে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ বছর ধরে মাদরাসাটির কোনো শিক্ষা কার্যক্রম নেই। নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। শুধুমাত্র এক বছর আগে পাঁচ কক্ষের একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। আর সেখানে মাস দুয়েক আগে একটি সাইনবোর্ড সাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানের নামে এবার ৭২০ পিস সরকারি বই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের তথ্য মতে, ১৯৮১ সালে মাদরাসাটি স্থাপিত হয়। যার মাদরাসা কোড নম্বর ৫৫২৪৮। কাগজকলমে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জাকির হোসেন, জুনিয়র মৌলভী আইয়ুব হোসেন, জুনিয়র শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, ইবতেদায়ি ক্বারী আব্দুর রউফ, জুনিয়র শিক্ষক রুহুল আমিনকে দেখানো হলেও তা নামমাত্র। এদের মধ্যে প্রধান জাকির হোসেন একটি মসজিদের ইমাম এবং ক্বারী আব্দুর রউফ বাহেরচর পোস্ট অফিসের পিয়ন।
জানতে চাইলে ওই মাদরাসা প্রধান মো. জাকির হোসেন বলেন, আমি তো এলাকায় নাই। সহকারীদের বই বিতরণ করতে বলেছি। আমাদের চেয়ার-টেবিল নাই। চেয়ার টেবিল আমাদের নিজেদেরই ম্যানেজ করতে হবে। আমাদের তো কোনো অনুদান দেয় না। হয়তো অনেকের ঘরও নেই। আমরা তো সংকটের মধ্যে আছি। এলাকায় জরিপ করে আগামী সপ্তাহের মধ্যে বই দেব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমি মসজিদের দায়িত্বে আছি আর ক্বারী রউফ পার্টটাইম ওটায় (পোস্ট অফিসে) কাজ করে।
এমন চিত্র শুধুমাত্র আমলিবাড়িয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাতেই নয়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ছোটবাইশদিয়ার তিল্লা আমিনা খাতুন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার অস্তিত্ব হিসেবে একটি মসজিদের সঙ্গে সাইনবোর্ড ঝুলানো রয়েছে। একই ইউনিয়নের বলাহী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার অবকাঠোমো কাঠ দিয়ে তৈরি করা হলেও টিনের ছাউনি দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া রাঙ্গাবালীর পূর্ব নেতা আকরামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার কাজ নামমাত্র একটি হাফিজিয়া মাদরাসার মধ্যে চালানো হচ্ছে। ফলে কার্যক্রম না থাকায় ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে বই বিতরণও করা হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য উপজেলার ২৫টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় ১৪ হাজার ৭৬০ পিস বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যপুস্তক বরাদ্দ দেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে বিনামূল্যে সরকারি পাঠ্যপুস্তক বিতরণের কথা থাকলেও উপজেলার অধিকাংশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় বই বিতরণ করা হয়নি। মূলত ওইসব প্রতিষ্ঠানে কাগজকলমে শিক্ষার্থী দেখিয়ে বই বরাদ্দ করা হয়েছে। বাস্তবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী নেই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, বছরের প্রথমদিন থেকেই বই বিতরণ করার কথা। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকির দায়িত্ব দুই শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest