কিশোরগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণে সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছে না ইউপি চেয়ারম্যানরা

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০১৯

নীলফামারী প্রতিনিধি ॥ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ভিজিএফ চাল বিতরণে সরকারী কোন নিয়মই মানছেন না ইউপি চেয়ারম্যানরা। এতে করে প্রকৃত দুস্তরা ভিজিএফ চালের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছেন অনেকে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল ৮ আগস্ট বিতরণ শেষ করার কথা থাকলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরাদ্দের শতকরা ৭০ ভাগ চাল বিতরণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভিজিএফ সুবিধাভোগীদের তালিকা দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানরা চাল উত্তোলন করে। কিন্তু বিতরণ প্রক্রিয়ায় ওই তালিকাভূক্ত ব্যক্তিদের চাল না দিয়ে খেয়ালখুশিমত চাল বিতরণ করছেন। এছাড়া চাল বিতরণের সময় মাস্টাররোলে স্বাক্ষর বা টিপসহি নিয়ে মালামাল বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা। তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে ভূয়া টিপসহি ও স্বাক্ষর দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে মাস্টাররোল। এছাড়াও উত্তোলনকৃত চাল ইউনিয়ন পরিষদ গোডাউনে মজুদ না রেখে খেয়ালখুশিমত স্থানে সরকারি এ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ২ জন উপকারভোগীকে ১ বস্তা করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও কিছুু ইউনিয়নে ৩ জন উপকারভোগীকে মিলে ১ বস্তা (৩০কেজি) করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবার চাল বিতরণের সময় নিয়ম কানুনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জাপা ও অঙ্গসংগঠনের ৫ নেতাকর্মীকে রনচন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বিমান ও তার দলবল পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনাও ঘটেছে।

গত ৭ আগস্ট বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে দেখা যায় বিতরণ কেন্দ্র ফাঁকা। পরে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফজলার রহমানের বড়ভিটা বাজারে অবস্থিত চাতালে গিয়ে দেখা যায়- কয়েকজন ভিজিএফ উপকারভোগীদের চাল দেয়া হচ্ছে। এসময় ভিজিএফ প্রত্যাশি ও স্বামী অত্যাচারিত নাতনির বিচারপ্রার্থী মেলাবর গ্রামের মিনা রানী (৭০) ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অঝোড়ে কাঁদতে থাকেন। তিনি তাকে আশস্ত করে বলেন, ‘তোর নাতনির বিচার করা হবে। ওর স্বামীকে গাছে টাঙ্গানো হবে আর তোমাদের ওই পাড়ায় নতুন করে তালিকা করা হবে। তখন দেখা যাবে।’ এদিকে ভিজিএফ চাল বিতরণের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাই বলেন, চাতালে চাল বিতরণের কোন অনুমতি নেই।

গত ৮ আগস্ট নিতাই ইউনিয়নের বিতরণ উপকেন্দ্র বেলতলিবাজারে গেলে দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নিয়ে চাল বিতরণ করছে। মাস্টাররোলে ভিন্ন নামের উপর স্বাক্ষর ও টিপসহী নেয়া হচ্ছে বলে এলাকার শিক্ষিত বেকার দুলু মিয়া (৩৫) অভিযোগ করেন।
৮ আগস্ট পুটিমারী ভিজিএফ বিতরণ কেন্দ্রে গেলে সুবিধাভোগী স্বপ্না (৫০) জানা- ‘হামাকগুলাক ৩ ঝোন মিলি ৩০ কেজি করি চাউল দেয়ছে ব্যাহে।’ শুনছোনো একজনে করি ১৫ কেজি করি পাইবে। এসময় তদারকি অফিসার আব্দুল হান্নানকে বস্তা বাবদ ২০টাকা করে আদায় করতে দেখা যায়।
শুক্রবার সকালে কিশোরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ চাল বিতরণ পরিদর্শনকালে দেখা যায়, নির্ধারিত তালিকা না দেখে শুধু ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে আগত মহিলাদের ভিজিএফ চাল দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিতরণ কেন্দ্রে কোন মাস্টাররোল দেখা যায়নি। এখানে তদারকি কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুল ইসলাম আনিছের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বরাদ্দের শতকরা ৬০ ভাগ চাল বিতরণ করা হয়েছে।’

এছাড়াও উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ একইভাবে করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবারে প্রায় ৬৬ হাজার খানার বিপরীতে ৫৬ হাজার ৫ শ’ ৪৭ টি কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তালিকা দিয়ে চাল উত্তোলন করে আবার নতুন তালিকা প্রস্তুত করা, মাস্টারোলে স্বাক্ষর না নিয়ে শুধুমাত্র আইডি কার্ড দিয়ে চাল বিতরণ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান- যে তালিকা দিয়ে চাল উত্তোলন করেছে তা দিয়েই চাল বিতরণ করতে হবে। মাস্টাররোলে টিপসহি ও স্বাক্ষর বাধ্যতা মূলক। তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিত বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন- তদারকি কর্মকর্তা না থাকলেও তার প্রতিনিধি অবশ্যই আছে। তিনি আরও বলেন লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তা তদন্ত করে দেখবো।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ


Pin It on Pinterest