মোঃ ফিরোজ হোসাইন
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁ-০৬ (আত্রাই-রাণীনগর) এর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নওগাঁ জেলা আওয়ামিলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মোঃ ইসরাফিল আলম এমপি বলেছেন, নওগাঁর আত্রাইয়ে ছোট যমুনা নদীর ফুলবাড়ি বেড়ি বাঁধ নির্মাণে কর্তৃপক্ষের নজর নেই। শুকনো মৌসুমে বেড়ি বাঁধটির সংস্কার কাজ না করায় এলাকার কয়েক হাজার মানুষ বর্ষা মৌসুমের আগেই আতংকে থাকবেন। তিনি আরও বলেন, ফুলবাড়ি এ বেড়ি বাঁধটি গত ২০১৪ সালে ভেঙ্গে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয় ফুলবাড়ি মিরাপুর উদনপৈ সহ আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম। ২০১৭ সালে রানীনগরের নান্দাই বাড়ি বেড়ি বাধ ভেঙ্গে এ দুই উপজেলার শতাধিক গ্রামসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এরপর ২০১৯ সালে আবার তা ভেঙ্গে যায় নান্দাই বাড়ি বাধ। ভাঙ্গনের সময় পানি উন্নয় বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের আশ্বাস প্রদান ও আনাগোনা দেখা গেলেও বাঁশের খুঁটি আর বালুর বস্তা দিয়ে দায়সারা চেষ্টা করা হয়। খুঁটিই যেন শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই বাঁধের অবস্থা খুবই বিপদজনক। তিনি বলেন, ছোটখাটো বরাদ্দ দিয়ে এই ভাঙ্গন ও বাঁধটির সংস্কার করা সম্ভব নয়। আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার ফুলবাড়ির এই ভাঙ্গন বাঁধটির প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। এই ফুলবাড়ী বাড়ি বাড়ি নির্মাণ না হলে এইবার আত্রাই ও রানীনগর দুই উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত ও হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই জরুরী ভিত্তিতে ফুলবাড়ী বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ফুলবাড়ি বাঁধ নির্মাণে সাহাগোলা ইউ,পি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন-বাঁধটির সংস্কার কাজের জন্য বছরের পর বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উর্দ্ধতন কর্তাব্যক্তিদের দুয়ারে দুয়ারে ধর্না দিয়েও কোন লাভ হয়নি। শুধুমাত্র ভেঙ্গে যাওয়ার সময় বাঁধটি পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তারা বড় বড় আশ্বাস দিয়ে চলে যান । আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কে এম কাউছার জানান, ফুলবাড়ি ভাঙ্গন-সহ এই বাঁধটি এলাকাবাসির জন্য একটি অভিশাপ। জরুরীভাবে এই বাঁধটি মেরামত করা না হলে পানি প্রবেশ করে আত্রাই রানীনগরের হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এই বাঁধ গুলোর দিকে সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন-এক সময় এগুলো রাস্তা ছিলো। কিন্তু নদী ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে এখন তা বাঁধে পরিণত হয়েছে। আত্রাই উপজেলার ফুলবাড়ি বেড়ি বাঁধের ভাঙ্গনসহ বাঁধ এবং রানীনগর উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়ি বাঁধটি সংস্কারের বরাদ্দ চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেছি। অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।