বসন্তের আগমনী বার্তা শিমুলবাগানে

ফেব্রুয়ারি ০৪ ২০২০, ২২:২৫

শামসুল কাদির মিছবাহ, সুনামগঞ্জ:  রক্তে রাঙা শিমুল ফুলে একাকার হবার অপেক্ষায় সারি সারি সাজানো শিমুল গাছের ডালগুলো। যেন দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের আবৃত্ত ভেদ করে শিমুল বাগানের প্রতিটা গাছ অপেক্ষায় প্রহর গুণছে রক্তিম আভা ছড়িয়ে দিতে। কিছু কিছু গাছের ডালে ইতোমধ্যেই ফুটতে শুরু করেছে শিমুল ফুল। প্রতি বছরের মত এবারও মাঘের শেষ সময়ে বসন্তের আগামনী বার্তা জানান দিচ্ছে সীমান্তবর্তী উপজেলা তাহিরপুরের মেঘালয় পাহাড় ঘেষা যাদুকাটা নদীতীরবর্তী দেশের সবচেয়ে বড় জয়নাল আবেদিন শিমুল বাগান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুচারুভাবে সাজানো সারিবদ্ধ শিমুলগাছের মধ্যে বেশ কিছু গাছের পাপড়ি মেলেছে। সেই সৌন্দর্য অবলোকন করতে অল্প সংখ্যক পর্যটক ও দর্শনার্থীদেরও দেখা মিলছে। সম্প্রতি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে শিমুল বাগানের ভেতরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ক্যাফে তৈরি করা হয়েছে ছোট পরিসরেই। যা পর্যটক আর দর্শনার্থীদের কাছে তীব্র গরমে পিপাসা নিবারনের মতই কাজে আসবে বলে অভিমত ঘুরতে আসা পর্যটকদের। এর নামকরণ করা হয়েছে শিমুল বাগান ক্যাফে যার উদ্যোক্তা বাগানের মালিকপক্ষ। আর সপ্তাহ খানেক সময় পার হলেই পুরো শিমুল বাগান পাপড়ি মেলে তার নিজস্ব সৌন্দর্য জানান দিবে, রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়বে পুরো শিমুল বাগান জুড়ে, আর শিমুল বাগানে রক্তিম আভা-ই এই বাগানের মূল আকর্ষণ, জানালেন ক্যাফের দায়িত্বে থাকা ওয়াসিম মল্লিক ও সাদ্দাম হোসেন। উল্লেখ্য যে, ২০০২ সালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল(উঃ) ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামের যাদুকাটা নদী সংলগ্ন লাউড়ের গড়ে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নাল আবেদীন নিজের প্রায় ২ হাজার ৪০০ শতক জমিতে সৌখিনতার বসে শিমুল গাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। দিনে দিনে বেড়ে ওঠা শিমুল গাছগুলো এখন হয়ে উঠেছে শিমুল বাগান। বাগানের সঙ্গে লেবুর বাগানও গড়ে উঠেছে। বসন্ত এলে দু’হাজারেরও বেশি শিমুল গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। ফাগুনের অরুণ আলোয় ফোটে বাগানের শিমুল ফুলগুলো। চোখের তৃষ্ণা মেটাতে টাঙ্গুয়ার হাওর, মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ও রূপের নদী যাদুকাটার মধ্যস্থলের বিশাল শিমুল বাগানে ফুটে ওঠা টুকটুকে লাল শিমুল ফুলগুলো দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন শত শত পর্যটক। বসন্তের দুপুরে পাপড়ি মেলে থাকা শিমুলের রক্তিম আভা মন রাঙায় তো বটেই, ঘুম ভাঙায় সৌখিন হৃদয়ের। এ যেনো কল্পনার রঙে সাজানো এক শিমুলের প্রান্তর। ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, মাঝে যাদুকাটা নদী আর এপাড়ে শিমুল বন। সব মিলে মিশে গড়ে তুলেছে প্রকৃতির এক অনবদ্য কাব্য। যে কাব্যের পরতে পরতে কেবল লালের সমারোহ। বাগানের প্রতিষ্ঠাতা জয়নাল আবেদীনের ছেলে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন, আমার বাবা একজন শিক্ষানুরাগী ও বৃক্ষপ্রেমী ছিলেন এ কথা বৃহত্তর সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণের কাছেই সমানভাবে সমাদৃত। প্রকৃতির প্রতি উনার গভীর প্রেম আর ভালোলাগা থেকেই রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে হিজল করচ গাছ রোপন, যাদুকাটা নদীতীরবর্তী শিমুল বাগান তৈরি করা, সোহালা সড়কের দুই পাশে কয়েক শত গাছ রোপন ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছ রোপন করা এসব কর্মকা- উনার বৃক্ষপ্রেমের-ই উৎকৃষ্ট উদাহরণ। বাবা নেই, কিন্তু উনার রেখে যাওয়া অনবদ্য সৃষ্টি আজ দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও প্রশংসিত হচ্ছে। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আমাদের জন্য আর কিছুই হতে পারেনা। আমরা পারিবারিকভাবে সর্বাত্মক প্রচেষ্টারত বাবার রেখে যাওয়া স্মৃতিসমূহ যেন ঠিকঠাক যতেœর সহিত আগলে রাখতে পারি।