বরিশালে বাজির টাকার জন্য খুন হন রুহুল আমিন

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

বরিশালে বাজির টাকার জন্য খুন হন রুহুল আমিন

বরিশাল মহানগর প্রতিনিধিঃ গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ‘ভারত বনাম বাংলাদেশের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি’ খেলা নিয়ে বাজি ধরে আট হাজার টাকার জন্য খুন হন বরিশাল নগরের আমানতগঞ্জ এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত রুহুল আমিন। এ ঘটনার চারদিন পর হত্যারহস্য খুঁজে বের করতে সক্ষম হইছে পুলিশ। বুধবার (৬ নভেম্বর) বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়েছেন অভিযুক্ত সুমন। আদালতে তার জবানবন্দি নথিভুক্ত করেছেন বিচারক মো. আনিছুর রহমান। জবানবন্দি শেষে সুমনকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সুমন বরিশাল নগরের বেলতলা ইসলামিয়া কলেজ সংলগ্ন বাবুল মিয়ার ভাড়াটিয়া মকবুল হাওলাদারের ছেলে। সুমন তার জবানবন্দিতে জানায়, সে ও রুহুল আমিন পূর্ব পরিচিত। গত ৩ নভেম্বর ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি খেলা নিয়ে বাজি ধরেন তার দুইজন। খেলায় বাংলাদেশের পক্ষে সুমন ও ভারতে পক্ষে রুহুল আমিন ৮ হাজার টাকা বাজি ধরেন। খেলায় বাংলাদেশ জয়ী হলে রুহুলের কাছে বাজির আট হাজার টাকা দাবি করে সুমন। কিন্তু টাকা না দিয়ে চলে যায় রুহুল। পর দিন ৪ নভেম্বর আমানতগঞ্জ কসাই বাড়ির পুল সংলগ্ন এলাকায় রুহুলকে পেয়ে ফের আট হাজার টাকা দাবি করে সুমন। এ সময় ওই টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমনকে থাপ্পর দেয় রুহুল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সঙ্গে থাকা ছুড়ি দিয়ে রুহুলকে আঘাত করে পালিয়ে যায় সে। বুধবার সুমন আদালতে এভাবেই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। এদিকে হত্যার ঘটনায় ওই দিনই রুহুল আমিনের বাবা পলাশপুরের ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ আলি মুন্সি বাদী হয়ে সুমনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, রুহুল আমিন ঢাকা ফিলিপস কোম্পানিতে চাকরি করতো। গত ২৮ অক্টোবর চাকরি ছেড়ে বরিশাল আসে। পরে বাজার রোডে প্রিয় ভান্ডারের সেল্সম্যান পদে চাকরি নেয়। সুমনের সঙ্গে রুহুল আমিনের পূর্ব থেকে টাকা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। ৪ নভেম্বর বিকেলে রুহুল আমিন ওই এলাকা থেকে ফেরার পথে সুমনকে পাওয়ায় তার কাছে পাওনা টাকা চায়। এতে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে রুহুলকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সুমন পালিয়ে যায়। পরে রুহুলকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিমে) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মামলার পরপরই ৫ নভেম্বর সুমনকে পটুয়াখালী থেকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ


Pin It on Pinterest