লালপুরে করোনা আতঙ্কে নাড়া করার হিড়িক

প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২০

লালপুরে করোনা আতঙ্কে নাড়া করার হিড়িক

সাহীন ইসলাম, লালপুর (নাটোর ) প্রতিনিধিঃ অজানা এক শত্রু করোনা ভাইরাসের কারনে গোটা বিশ্ববাসীর ন্যায় বাংলাদেশের মানুষও আতঙ্কিত। চারদিকে থমথমে, আতঙ্ক আর আতঙ্ক, এই বুঝি আমাকে করোনায় ধরল। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে লালপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চলছে মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক। করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে এমন দৃশ্যে মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ যখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চোখ রাখেন তখনই মাথা ন্যাড়া করার বিভিন্ন পোস্ট ভেসে আসে চোখের সামনে। দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিনই লালপুরের বিভিন্ন জায়গায় নর সুন্দরদের (নাপিত ) বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে নাড়া করে নিচ্ছেন । নাপিতরা এখন মোবাইল সেলুন নিয়ে নিজ বাড়িতে প্রস্তুত হয়ে থাকছেন, কেউ মোবাইল ফোন করলেই তার বাড়িতে গিয়ে চুল, দাড়ি কেটে দিয়ে আসছেন । চুল কাটা ৫০ টাকা, দাড়ি কাটা ৫০ টাকা, নাড়া করা ৫০ টাকা করে নিচ্ছে । সব সম্ভবের দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। কেউ কেউ আবার মাথা ন্যাড়া করে ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করছেন। রীতিমতো একে অপরের দেখাদেখিতে মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক পড়ে গেছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সেলুনগুলো বন্ধ থাকায়, সরকার লকডাউন ঘোষণা করার কারণে , বিনা প্রয়োজনে জনসাধারণকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করায় , উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লোকজন তারা নিজেরাই নিজেদের এলাকা লকডাউন করায়, বাড়ি এবং গ্রামের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এখন প্রায় সবাইকে গৃহবন্দি থাকতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি কতদিন পরে স্বাভাবিক হবে এই নিশ্চয়তা নেই। তাই এই সুযোগে তারা মাথা ন্যাড়া করে নিচ্ছেন। লালপুর উপজেলার কলেজ মোড়ের সেলুন ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, কি আর বলবো ভাই, আজ পনেরো দিন দোকান বন্ধ, না খেয়ে আর কত দিন চলবে, এখন পর্যন্ত কোন প্রকার সহযোগিতা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে যে যখন ফোন করছে, তখন তার বাড়িতে গিয়ে চুল কেটে দিয়ে আসছি । জোতদৈবকী নিবাসী সাগর জানান, সরকারি নির্দেশনায় এখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো সেলুনগুলোও বন্ধ। দীর্ঘদিন সেলুনে যেতে না পারায় মাথায় চুল বেড়ে যাচ্ছে। গরমের এই সময়ে মাথা চুলকাচ্ছে। তাই বাড়িতে বসেই মাথা ন্যাড়া করে ফেলছেন বলে তিনি জানান। এসময় সামাজিক দূরত্ব মেনেই আমি, রোহান, অথই , আরিফুল, ছোট সাগর, ছোটা ভিম নাড়া করেছি । উপজেলার কলেজ গেটের মজনু হেয়ার কাটিং সেলুনের স্বত্বাধিকারী মজনু বলেন, ‘বাড়ি গিয়ে চুল ছাঁটানোর জন্য দু-একজন ফোন দিচ্ছেন। পরিচিত মানুষ হলে বাড়িতে গিয়ে চুল কেটে দিয়ে আসছি। এ জন্য একটু বেশি টাকা দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সেলুন বন্ধ। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। ব্যক্তিগত উদ্যোগে লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু কিছুটা সহায়তা করেছেন, কিন্তু তা যৎসামান্য । সরকারিভাবে সহায়তা লোক চিনে দেয়ায় আমার মতো অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন ।


মুজিব বর্ষ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Pin It on Pinterest