বানারীপাড়া উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের উদ্যোগে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর জন্মদিন পালন

প্রকাশিত: ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯

বানারীপাড়া উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের উদ্যোগে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর জন্মদিন পালন

ইরফান সুজন, স্টাফ রিপোর্টার। আজ ১৯ নভেম্বর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর জন্মদিন। এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া সাদিক আবদুল্লাহর পিতা পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কমিটির আহবায়ক মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এম.পি ও মাতা সাহান আরা বেগম শহীদ জননী, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও সংস্কৃতিজন। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় সাদিক আবদুল্লাহ তার জীবদ্দশায় নানা ঘাত প্রতিঘাত মোকাবেলা করে আজ নিজেকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। মাত্র দেড় বছর বয়সে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিলো তাকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাত্রিতে যখন নির্বিচারে হত্যা চালানো হয়েছিল তখন সাদিক ছিলেন তার মায়ের কোলে। সাদিক আবদুল্লাহ মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি সবসময় শুকরিয়া আদায় করে বলে থাকেন হয়তো জনগনের সেবা করার জন্য সেদিন তাকে আল­াহ বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আগস্ট ট্রাজেডির পর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে সাদিক আবদুল্লাহকে পলাতক জীবনযাপন করতে হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ভারত গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে। সেখান থেকে দেশে ফেরা, আবার আমেরিকায় গিয়ে প্রবাস জীবন যাপন এতো কিছুর মধ্যেও ধৈয্য হারাননি তিনি। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান সাদিক অনেক উত্থান, পতন দেখেছেন আর অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে তিলে তিলে নিজেকে তৈরী করেছেন। তিনি সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেছেন বছর দশেক হলো। এক যুগেরও কম সময় সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত হলেও এই কম সময়েই তিনি নিজেকে আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে আজ তিনি বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের জন্য একজন অপরিহার্য্য নেতা হিসেবে আর্বিভূর্ত হয়েছেন। তিনি ঘোষনা করেছেন প্রয়োজনে তিনি সহায় সম্বল বেঁচে দেবেন তারপরেও সংগঠনের কোন নেতাকর্মীকে বিনা চিকিৎসায় অথবা না খেয়ে মরতে দেবেন না। অল্প সময়ের মধ্যে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মন জয় করে তিনি যেমন দলে অনেকটা অপ্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠেছেন তেমনি গরীব মানুষসহ সকলের সাথে সহজভাবে মিশে তিনি হয়ে উঠেছেন গনমানুষের একজন। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করার সুযোগ পান তিনি। অনেকটা আসলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন- এর মতো। তিনি বাজিমাত করে দিয়ে বিপুল ভোটে হলেন সিটি মেয়র। যদিও নিজেকে তিনি নগর পিতা নয় একজন সেবক হিসেবেই ভাবতে পছন্দ করেন। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ আজ নগরীর সর্বোচ্চ মসনদে আসীন হলেও তিনি সবসময় থাকতে চান জনতার কাতারে। ওয়াক্তের নামাজ অথবা জানাজা নামাজ পড়তে গিয়ে তিনি কখনো সামনের কাতারে দাঁড়ান না। তার মতে প্রধানমন্ত্রী দেরীতে গিয়েও সামনের কাতারে বসাকে অপছন্দ করেন। তাই তিনি এ থেকে বিরত থাকেন। মুক্তা পানি খাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী যেদিন আহবান জানিয়েছেন সেইদিন থেকে তিনি ওই পানি ব্যবহার করছেন। সাদিক আবদুল্লাহ বয়স্কদের যেমন সন্মান করেন তেমনি ছোটদের স্নেহ করেন। মেয়রের মতে আগে নেতাকে নয় মা-বাবাকে সন্মান করো। মুরব্বীদের সন্মান করো। কারন সন্মানিত ব্যক্তি সন্মান না পেলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করে সাদিক আবদুল্লাহ যেমন সেখানে শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছেন আবার তার কর্মকর্তা- কর্মচারীদের জন্য হয়েছেন মানবিকও। তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন বাড়িয়েছেন। অনিয়মিত সকল কর্মচারীর জন্য চালু করেছেন বোনাস। মাসের প্রথম সপ্তাহেই পরিশোধ করা হচ্ছে বেতন। চাকুরী শেষে অবসর যাওয়ার পর যাবতীয় সকল সুবিধা পাওয়ার স্বপ্ন কেউ কখনো দেখেননি। কিন্তু সাদিক আবদুল্লাহ দাবি করার আগেই অবসরে যাওয়া ৪৬ জন স্টাফকে একসাথে তাদের সকল পাওনা পরিশোধ করে দিয়ে বিসিসির ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করেছেন। বয়সে নবীন এই মেয়র সকলকে সাথে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন আগামীর বরিশাল গড়ার। তাদের ভালো রাখা যায় তা একাকি ভাবতে তিনি স্ত্রী সন্তানদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। মেয়র বরিশালের জনগনকে ভাবেন তার পরিবারের সদস্য। এদের ভালবাসা ত্যাগ করা যায়না বলেই তিনি সংসারের মায়া অনেকটাই ত্যাগ করেছেন। একারনে কোন ক্ষোভও হয়তো নেই প্রান প্রিয় সহধর্মিনী লিপি আবদুল্লাহর। আদরের তিন সন্তান পিতা সাদিক আবদুল্লাহর স্নেহ ভালবাসা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। তারপরেও তারা তাকে সার্পোট দিয়ে যাচ্ছে। কারন তাদের বাবার বরিশালের জনগনের প্রতি ভালবাসার পরিমাপটা তারা বুঝতে পারছেন ধীরে ধীরে। তাই বাবাকে অনেক মিস করলেও তারাও মানিয়ে নেবার চেষ্ঠা করছেন। ধর্মভীরু সাদিক আবদুল্লাহ নামাজ পড়া নিয়ে যেমন মিথ্যাচার না করতে আহবান জানিয়েছেন তেমনি কর্মীরা সালাম দিলে তার উত্তর দেয়ার জন্য নিজ সংগঠনের নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তার ভালোবাসার স্নেহের বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ ও পৌর ছাত্রলীগ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের উদ্যোগে কেক কেটে তার জন্মদিন উদযাপন করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফোরকান আলী হাওলাদারের,সাবেক সভাপতি মো. সুমন হোসেন মোল্লা, সহ-সভাপতি মমিনুল কবির মিঠুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান উজ্জ্বল, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন দেবনাথ, সাগর আহমেদ সাজু, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল আমিন রাসেল, ছাত্রলীগ নেতা সুমন সিদ্দিকি, ফজলে রাব্বি, সজিব ঘরামী, জামাল হোসাইন, সাগর চন্দ্র শীল, হৃদয় সাহা প্রমুখ। এছাড়াও বানারীপাড়া ডিগ্রী কলেজ,বাইশারী সৈয়দ বজলূল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ শাখা এবং উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়াড’র্র ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest