ঢাকা ১১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২০
রবিউল ইসলাম রংপুর প্রতিনিধি ।
রংপুর জেলায় করোনা মহামারিতে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩৫টি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। জেলায় এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে।সোমবার (৪ মে) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে এ তথ্য তুলে ধরেন রংপুরের জেলা প্রশাসক।ডিসি আসিব আহসান বলেন, ‘রংপুর জেলার সকল সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারের সকল জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কর্মহীন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তালিকা করে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন, আটটি উপজেলা এবং তিনটি পৌরসভা এলাকায় ২ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩৫টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। যা ধাপে ধাপে বিতরণ করা হচ্ছে। আরও জানান, ‘ওএমএসের চাল বিক্রি, টিসিবির পণ্য বিক্রিসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ বিভাগ, র্যাব, আনসার ব্যাটালিয়ান এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন নিয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।এছাড়াও জেলার বড় বড় বাজারগুলোকে স্বাভাবিকভাবে ছোট ছোট একাধিক বাজারে পুনর্বিন্যাস করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সরবরাহকে অব্যহত রাখা হয়েছে। পণ্য দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মজুদদারি রোধে সার্বক্ষনিক কঠোর নজরদারি অব্যহত রাখা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করা হয়।ডিসি জানান, ‘মিঠাপুকুরে একজন মুচি (জুতা সেলাইকারী) ২০ হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন। একই সাথে একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা তার সম্মানী ভাতা ১২ হাজার টাকা এবং এক স্কুলছাত্র মাটির ব্যাংকে সঞ্চয় করা ৪ হাজার ৩৩৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন।কৃষি উৎপাদন, পরিবহন, বিপণন অব্যহত রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাওড় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে রংপুর জেলা থেকে ২ হাজার ৯২৭ জন ধান কাটা কৃষি শ্রমিক প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী ১০ মে’র পর থেকে রংপুর জেলায় বোরো ধান কাটা শুরু হবে। প্রতিকূল আবহাওয়ার সম্মুখীন না হলে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে, যোগ করেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান।বলেন, ‘রংপুর জেলায় করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ১৫ এপ্রিল লকডাউন করা হয়। জেলার প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন সীমান্তে ২৩টি চেকপোস্ট এবং মেট্রোপলিটন এলাকাতে ১৭টি পুলিশি চেকপোস্ট বসিয়ে সার্বক্ষনিক সার্বক্ষনিক কঠোর নজরদারি অব্যহত রাখা হয়েছে। বর্তমানের রংপুরে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে আশি বছরের এক বৃদ্ধসহ চারজন সুস্থ হয়েছেন। বাকিরাও সুস্থতার পথে রয়েছেন।’সোমবার সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর বিভাগের জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।এসময় রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মতবিনিময় করেন বিভাগীয় কমিশনার কেএম তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানম ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু।


© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ Developed By Agragami HOST