সখিপুরে চাঞ্চল্যকর সমেলা ভানু হত্যার রহস্য উদঘাটন, সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

সখিপুরে চাঞ্চল্যকর সমেলা ভানু হত্যার রহস্য উদঘাটন, সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ গ্রেফতার
শহিদুল ইসলাম সোহেল,ময়মনসিংহ ব্যুরোঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধা সমেলা ভানু (৫৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।হত্যাকারী সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ কে গ্রেফতার করা হয়েছে।জানা যায় গত ২০ নভেম্বর নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নওগাঁ জেলার বাসিন্দা বাবু শেখ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ টাঙ্গাইলের সখীপুরের সমেলা হত্যার দায় স্বীকার করে। সখীপুর থানা পুলিশ নাটোর থেকে আসামি বাবু শেখকে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বুধবার টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ সমেলা বানু সহ আরো নয়জন নারীকে হত্যার কথা শিকার করে।এদের মধ্যে ছয়জন কে হত্যার পূর্বে ধর্ষণ করে। বাবু শেখ ওরফে কালু নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার হরিশপুর গ্রামের জাহের আলীর ছেলে। সখীপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচ এম লুৎফুল কবির জানান, গত ৯ জুলাই রাতে উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের আমড়াতৈল গ্রামের মৃত বাবর আলীর স্ত্রী সমেলা ভানু খুন হন। সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধ করে ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়। বাবু শেখ ও সহযোগী ডাবু মিলে ওই বৃদ্ধাকে খুন করে একটি স্বর্ণের চেইন ও পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ১০ জুলাই সমেলার ছেলে হোসেন আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেন। গত ১১ জুলাই ‘সিঁধকেটে ঘরে ঢুকে বিধবাকে হত্যা’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ ছাপা হয়। এর দুই মাস পর ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে মির্জাপুর উপজেলার হরতকীতলা গ্রামের কাঞ্চু খানের স্ত্রী আরেক বৃদ্ধা রুপভানু বেগমকেও (৬০) শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন ওই বাবু শেখ। সেখান থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে পালান তিনি। বাবু শেখ পুলিশের কাছে স্বীকার করেন দুই খুনে নওগাঁ এলাকার গোলাম রসুল ওরফে ডাবু ছিলো তার সহযোগী। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক লুৎফুল কবির আরও জানান, সখীপুরের সমেলা ভানুর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইনটি বাবু শেখ গাজীপুর মহানগর এলাকার গাছা থানার স্বর্ণপট্রিতে কামরুল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এ পর্যন্ত আটবার তিনি কামরুলের কাছে চুরি করা সোনার গহনা বিক্রি করেছেন। চুরির মাল ক্রয় করার অপরাধে পুলিশ কামরুলকে গ্রেপ্তার করে বাবু শেখের সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন। বাবু শেখ দাবি করেন, রানীনগর থানার এক ইউপি চেয়ারম্যান তাঁকে একটি খুনের মিথ্যা মামলায় আসামি করেন। এরপর নওগাঁ থেকে সে পালিয়ে নাটোর আসেন। কাজকর্ম না থাকায় গ্রামে ঘুরে ঘুরে মাছ শিকার ও চুরি করেন। চুরি করতে গিয়ে নারী ধর্ষণ ও খুনের নেশায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। বাবু শেখ আরও বলেন, আমি ভুল বুঝতে পেরেছি। আমাকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিলে আমি ভালো হয়ে যাবো। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বুধবার জানান, বাবু শেখের খুন করাই যেন নেশা। বেশিরভাগ খুনই করেছেন রাতের বেলায় ঠান্ডা মাথায়। গত ছয় বছরে সে নয়জন নারীকে খুন করেছেন। হত্যা করার আগে ছয়জন নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest