জয়ের পথে ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

প্রকাশিত: ১২:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২০

জয়ের পথে ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

অনলাইন ডেস্ক: রাহুল ত্রিপাঠির দুরন্ত হাফ-সেঞ্চুরি ও বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভর করে জয়ের পথে ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে স্বস্তির দুই পয়েন্ট ঝুলিতে ভরল নাইট ব্রিগেড। আবুধাবির ভিআইপি গ্যালারিতে বসে শাহরুখ খান উপভোগ করলেন দলের ১০ রানে জয়। ১৬৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৫৭ রানে আটকে গেল ধোনি ব্রিগেড।

চেন্নাইয়ের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিলেন শেন ওয়াটসন ও ফাফ ডু’প্লেসি। ওপেনিং জুটিতে ৩০ রান যোগ করেন তাঁরা। কিন্তু সেট হয়ে গিয়েও নিজের ইনিংসকে লম্বা করতে পারেননি ডু’প্লেসি (১৭)। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ওয়াটসনের সঙ্গে ৬৯ রানের জুটি গড়ে দলকে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছিলেন অম্বাতি রায়াডু। কিন্তু এই জুটি ভাঙতেই কেঁপে যায় তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের ব্যাটিং লাইন-আপ। ৩০ রান করে নাগারকোটির বলে আউট হন রায়াডু। কিছুক্ষণের মধ্যে নারিনের বলে এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন ওয়াটসনও। ৪০ বলে ৫০ রান করেন তিনি। এরপর ধোনি (১১), স্যাম কুরান (১৭), কেদার যাদবরা (অপরাজিত ৭), জাদেজা (অপরাজিত ২১) চেষ্টা করেও দলকে জয়ের পথ দেখাতে পারেননি।

টসে জেতার পর ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত জানাতে দেরি করেননি ক্যাপ্টেন দীনেশ কার্তিক। আসলে ডিকে চেয়েছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের ঘাড়ে বড় রান চাপিয়ে দিতে। কিন্তু তা আর হল কোথায়! তারকারাই যে ব্যর্থতার আঁধারে ঢাকা পড়লেন। তবে তারই মাঝে রাহুল ত্রিপাঠিই ধ্রুবতারা হয়ে পথ দেখালেন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। উজ্জ্বল তারকার মতোই তিনি আলো ছড়ালেন ব্যাট হাতে। ৫১ বলে করলেন অনবদ্য ৮১ রান। যা সাজানো রয়েছে আটটি চার ও তিনটি ছক্কা দিয়ে। দলের তারকা ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও প্রবল আত্মবিশ্বাসে ভর করে ৩১ বলে আইপিএলে নিজের পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রাহুল ত্রিপাঠি। মূলত তাঁর ইনিংসে ভর করেই ১৬৭ রান তুলতে সক্ষম হয় কেকেআর।
শুভমান ও রাহুল বড় ইনিংসের ভিত গ঩ড়ে তোলার আশা জাগিয়েও সফল হননি। শার্দুল ঠাকুরের বলে শুভমান (১১) কট বিহাইন্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন। বড় রান করতে ব্যর্থ নীতীশ রানাও (৯)। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে করণ শর্মার বলে জাদেজার হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি। একদিকে রাহুল ত্রিপাঠি রানের গতি সচল রাখতে সফল হলেও, বাকিদের অবস্থা তখন আয়ারাম-গয়ারাম। চার নম্বরে সুনীল নারিন এদিন ফের একবার হতাশ করলেন দলকে। করণের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তোলেন নারিন (১৬)। অনেকটা দৌড়ে শূন্যে শরীর ছুঁড়ে অসাধারণ দক্ষতায় তা তালুবন্দি করেন জাদেজা। বাউন্ডারি লাইন যাতে স্পর্শ না হয়ে যায়, তাই তিনি বলটি ছুঁড়ে দেন ডু’প্লেসির হাতে। ইয়ন মরগ্যান পাঁচ নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি। ৭ রানের মাথায় স্বদেশীয় স্যাম কুরানের বলে আউট হন তিনি। আন্দ্রে রাসেলও মাত্র ২ রান করেই ফেরেন ডাগ-আউটে। প্রবল চাপে পড়ে কার্তিক নামেন সাত নম্বরে। ঝোড়ো ব্যাটিং করে অতীতের ব্যর্থতা ঢাকার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি কেকেআর অধিনায়ক। ১২ রানেই তাঁকে থামিয়ে দেন স্যাম কুরান। অজি তারকা প্যাট কামিন্স ৯ বলে ১৭ রান যোগ না করলে কেকেআরের ইনিংসে আরও আগেই যবনিকা পড়ত। চেন্নাই বোলারদের মধ্যে ডোয়েন ব্র্যাভো ৩টি উইকেট দখল করেন। ২টি করে উইকেট নেন স্যাম কুরান, শার্দূল ঠাকুর ও কর্ণ শর্মা।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest