পেটে ব্যাথার জন্য শিশুকে ৩বার অপারেশন বরিশাল মেডিকেলে!

প্রকাশিত: ১:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯

পেটে ব্যাথার জন্য শিশুকে ৩বার অপারেশন বরিশাল মেডিকেলে!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ টনা ঘটেছে বরিশাল শহরের স্বনামধন্য সরকারি হাসপাতাল ‘বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়(শেবাচিম) হাসপাতালে। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই চিকিৎসক নিজেই চিকিৎসার খরচ বহন করবেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, মেয়ের পেটে ব্যাথার চিকিৎসা করাতে ১৫ দিন আগে ঝালকাঠী সদর উপজেলার পোনাবারিয়া গ্রাম থেকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে আসেন শামিম শরীফ। হাসপাতালে ভর্তির পর স্বাভাবিক নিয়মে চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু মেয়ের অপারেশন করাতে হবে।আর সেটা ভালোভাবে করাতে হলে বরিশাল শহরের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে যেতে হবে ও টাকা লাগবে- এমন কথা বলে তার কাছ থেকে ৪৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন একজন চিকিৎসক। কিন্তু মেয়ে গুরুতর অসুস্থ্য হওয়ায় বাধে বিপত্তি।এরপর চিকিৎসকের টাকা নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে সেটি হাসপাতালের বাহিরে পর্যন্ত গড়ায়। শামিম সংবাদকর্মীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা এ রোগীর নাম সারামনি, বয়স ৩। সার্জন হিসেবে রয়েছেন ডা. মিজানুর রহমান।

শেবচিম হাসপাতালে(বর্তমানে) এ সংক্রান্ত অভিযোগে রোগীর বাবা বলেন, ‘টাকা-পয়সা ধার করে ঝালকাঠী থেকে মেয়ের চিকিৎসা করাতে এখানে আসি। আমাকে জানানো হয়েছিল এখানে ভালো চিকিৎসা হয়। আমি কছিু দিন ধরে ভুক্তভোগী, শুধু টাকার অভাবে আসতে পারিনি। রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে যাওয়ার আগে শেবাচিম হাসপাতালে আমাকে বলা হয়েছে অপারেশন করতে হবে। আমি বলেছি, টাকা যাক সমস্যা নেই অপারেশন করা লাগলে করাব। তখন আমাকে রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং টাকা-পয়সার পরিমাণের কথা জানান। আমাকে বলা হয়েছিল, ১৮ হাজার টাকা দিতে হবে। সরকার তো হাসপাতালে সবকিছু সরবারহ করে না, তাই সেগুলো কিনতে আমাকে ১৮ হাজার টাকা দিতে হবে। আর সব মিলায়ে ৩৪-৩৫ হাজার টাকা আপনার খরচ হবে। দু’দিন আসার পর আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে, আমি টাকা আনছি কিনা? আমি আনছি বলার পর উনার রুমে যেতে বলেন। এরপর মঙ্গলরবার (১০ ডিসেম্বর) অপারেশন হয়। ডা. মিজানুর রহমান নিজ হাতে টাকাটা নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফায় সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) রোগীর পেট অপারেশন করা হয়। কিন্তু কোনো রশিদ দেননি। এমনকি আমাদের বলা হয়েছিল, এ টাকার কথা কাউকে বলবেন না। তখন আমাদের সন্দেহ হয়েছে। অপারেশনের পর ডাক্তারকে আর খুঁজে পাইনি। পরে সাক্ষাতে কথা হলে ডাক্তার মিজানুর রহমান ফের শেবাচিম হাসপাতালে যেতে বলেন। বেসরকারী হাসপাতালে দু’দফা অপারেশনের পর সর্বশেষ শনিবার(২১ ডিসেম্বর) শেবাচিম হাসপাতালে তৃতীয় দফায় আমার মেয়ের অপারেশন করা হয়।শামিম বলেন, আমার স্বজনরা বিষয়টি জানতে চাইলে ডাক্তার মিজানুর রহমান সকল চিকিৎসার ব্যয়ভার নিবেন বলে আশ্বস্থ করেন।’

হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক বরিশাল সংবাদ কর্মিদের বলেন, এ হাসপাতালে ডাক্তারদের একটি চক্র রয়েছে যারা প্রতিনিয়তই রোগীদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল করে থাকে। হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেন। কেউবা এভাবে রোগীদের বোকা বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। হাসপাতাল প্রশাসন এসব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

তবে ডা.মিজানুর রহমান ওই শিশুকে রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে নিয়ে দু’দফা অপারেশন করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কারন হিসেবে তিনি জানিয়েছেন জরুরী অপারেশন করা লাগবে। আর ওই দিন সরকারী হাসপাতালে(শিশু সার্জারী) অপারেশন বন্ধ ছিল।

ডা.মিজানুর রহমান আরও বলেন, সরকারীভাবে ওই শিশুর সকল চিকিৎসার খরচ বহন করা হচ্ছে।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সরকারী হাসপাতাল এখন খোলা,যে কারনে ওই শিশুকে ফের হাসপাতালে আনা হয়েছে।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা.মো.বাকির হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করনেনি। তবে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুর রাজ্জাকের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি জানান, আমি ছুঁটিতে রয়েছি। আপনি(প্রতিবেদক) এ বিষয়ে পরিচালকের সঙ্গে কথা বলুন।’


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest