ভোলায় আমনের ফলন নিয়ে চিন্তিত কৃষক

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২০

ভোলায় আমনের ফলন নিয়ে চিন্তিত কৃষক

ইমতিয়াজুর রহমান : ভোলার বিস্তীর্ন ফসলের ক্ষেতে ধান মাড়াই শেষ। এখন ধাান গোলায় তুুলছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন নিয়ে সবার মুখে হাসি ফুটেনি। ফলন নিয়ে চিন্তিত তারা। একদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব অন্যদিকে পোকার আক্রমনে কিছুটা হতাশায় রয়েছে চাষী। অন্যদিকে বাজার দর তেমন ভালো উঠেনি তাই অনেকেই লোকসানের আশংকা করছেন। বাজার দর আরো বেড়ে গেলে ঘুরে দাড়াতে পারবেন বলে আশাবাদি চাষীরা।তবে আমনের বা¤পার ফলন হয়েছে বলে দাবী করছে কৃষিবিভাগ। তাদের মতে, কিছু স্থানে সামান্য ক্ষতি হলেও বেশীরভাগ এলাকায় ফলন ভালো। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী ধান আবাদ হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, কৃষকের বিস্তীর্ন ফসলের ক্ষেকে ধান কাটার ধুম পড়ে গেছে। ধান গোলায় তুলছেণ কৃষক-কৃষানিরা। অনেকেই আবার বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন। ফলন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চাষীদের মাঝে। বুলবুল ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা এবং পোকার আক্রমন কৃষকদের জন্য শংকার কারন। তবে অনেকেই ফলন নিয়ে খুশি। চাষীরা বাজার দাম বৃদ্ধি এবং সরকার পক্ষ থেকে সবার ধান সংগ্রহ করা হলে ঘুরে দাড়াতে পারবেন বলে আশাবাদি। ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্র প্রসাদ গ্রামের চাষী মো. সোহেল জানান, এ বছর তিনি ২ একর জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। কিন্তু উৎপাদন সন্তোশজনক হয়নি। তাই লোকসানের আশংকা করছেন তিনি। একই এলাকার আমন চাষী নাছির পাটোয়ারি বলেন, একদিকে বুলবুলের ক্ষতি অন্যদিকে ধানে প্রচুর পরিমানে চিডা এবং ছেনি পোকা (শীষ কাটা লেদা পোকা) আক্রমন। ধান মাড়াই করতে গিয়ে হতাশ। ক্ষতের ৩ ভাগের ২ ভাগ ধানই নস্ট হয়ে আছে। ৪ একর জমিতে ধানের আবাদ করেছেন কৃষক মো. শামিম। তিনিও ফলন নিয়ে সন্তুস্ট নন। বলেন, একদিকে বাজার দর কম অন্যদিকে চিডায় ধরেছে। এতে মাড়াই খরচ ঠিকমত উঠবে না। তবে ফলন কিছুটা ভালো হয়েছে ওমর আলী নামের এক চাষীর। তিনি বলেন, এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋন নিয়ে আমনের আবাদ করেছি, ফলন কিছুটা ভালো। একর প্রতি ২/৩ মন করে উৎপাদন হয়েছে। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র শীল বলেন, ভেলুমিয়ার চন্দ্র প্রাসাদ এলাকার কিছু কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ তবে অনেকের ফলন আবার ভালো। বুলবুলের কারনেও কৃষকদের ফলনে সমস্যা হয়েছে। তাছাড়া পোকার আক্রমন আছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, ভোলার এ মৌসুমে ৩ লাখ ৭৪ হাজার চাষী আমনের আবাদ করেছেন। এবছর জেলার সাত উপজেলায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে সদরে ২৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর, দৌলতখানে ১৬ হাজার ৫৪০, বোরহানউদ্দিনে ১৮ হাজার ৫০০, তজুমদ্দিনে ১২ হাজার ৬০০, লালমোহন উপজেলায় ২৩ হাজার ৫০০, চরফ্যাশন উপজেলায় ৭০ হাজার ৩৫০ হেক্টর ও মনপুরা উপজেলায় ২২ হাজার ২০০ হেক্টর। মোট আবাদ থেকে এ বছর উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন চাল। কিন্তু বুলবুলের কারনে স¤পুর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে চার হাজার ২৪ হেক্টর জমি। যদিও এ মৌসুমে হেক্টর প্রতি ৩.৩ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হচ্ছে বলে দাবী করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিনয় কৃষ্ণ মজুমদার বলেন, আমনের বা¤পান ফলন হয়েছে, যদিও দুএকটি স্থানে প্রকৃতিকগত কারনে কিছুটা ফলন কম হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বছর মন প্রতি ১০৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় করছে। ধান ক্রয়ের জন্য আমরা জেলায় সর্বমোট ২৬ হাজার ৮১৫ জন কৃষকদের তালিকা তৈরী করে পাঠিয়েছি। সব মিলিয়ে কৃষকরা লাভবান হবেন বলেই আমরা মনে করছি।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest