উজিরপুরে ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্য কর্তৃক সাংবাদিককে হুমকি, থানায় জিডি

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২০

উজিরপুরে ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্য কর্তৃক সাংবাদিককে হুমকি, থানায় জিডি
শফিউর রহমান কামাল
বরিশাল ব্যুরো:
চাল চুরি ধরতে গিয়ে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. হরেন রায় ও ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন তালুকদার কর্তৃক একুশে সংবাদ ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল আলোকিত সময় এর উজিরপুর প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম শামীমকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। গতকাল (৩০ এপ্রিল) সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শামীম নিজে উপস্থিত হয়ে উজিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরিটি করেন। সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শামীম দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দৈনিক একুশে সংবাদ ও আলোকিত সময় অনলাইন পত্রিকায় কাজ করে আসছেন। কিছু দিন আগে তিনি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, উজিরপুর হারতা বন্দরের অমল শাহার ও তার ছেলে শিপ সংকর সাহা (দিপু) ১০ টাকা কেজি দরের চাল ও মৎস্যজীবীদের সরকারী খাদ্য অধিদপ্তরের চাল কিনে নিজ ঘরে গুদামজাত করে রেখেছে। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিক মুঠো ফোনে উজিরপুর থানার এসআই মাহাতাব উদ্দিনকে জানান। তাকে জানালে তিনি হারতা পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ আজমল হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠাবেন বলে জানান। কিছুক্ষণ পরে ক্যাম্প ইনচার্জ আজমল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান দোকানদার অমল সাহার বাড়ির পাশে হারতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শুনিল কুমার বিশ্বাস ও স্বপন মজুমদারের বসত ঘর এবং ঘটনাস্থলে তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইনচার্জ আজমল হোসেন দোকানদারকে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। দরজা খুলে দেয়ার পর বারান্দায় সরকারি খাদ্য অধিদপ্তরের ১০ বস্তা চাল দেখতে পাওয়া যায়। চাল দেখে সাংবাদিক শামীম সরকারের সম্পদ রক্ষার্থে মুঠো ফোনে ভিডিও ধারন করেন। চালের ব্যাপারে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলে দোকানি বলেন যে, সেখানে থাকা চাল ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন তালুকদার, মনিন্দ্রোনাথ মল্লিক এবং চেয়ারম্যান ডা. হরেন রায় মাধ্যমে কিনেছেন। এরপর শুনিল কুমার বিশ্বাস ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন তালুকদারকে কল দিলে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সাংবাদিক শামীমকে বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ দেয়াসহ মামলার হুমকি দেন। তারপর তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরের দিন ডা. হরেন রায় সাংবাদিক শামীমকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিয়ে লাথি মেরে মাজা ভেঙ্গে ফেলে দেয়াসহ মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। চেয়ারম্যানের হুমকিতে তিনি ভয়ে বিষয়টি আর প্রকাশ করেননি। ওই ঘটনার পর থেকে হুমকি অব্যাহত ছিল। পরে বিষয়টি তিনি অফিসকে জানালে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে বর্তমানে তার জীবনের নিরাপত্তা নাই বলে তিনি শঙ্কা করছেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান ডা. হরেন রায় ও তার লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছন ও থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন। জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ৩০ এপ্রিল সাংবাদিক শামীমও উজিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

alokito tv

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Pin It on Pinterest