রাজগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২০

রাজগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
উত্তম চক্রবর্তী,মণিরামপুর(যশোর) প্রতিনিধি : রাজগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া তামিম ইকবাল নামে (৮) এক নামে স্কুলছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকালে থানা পুলিশ মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের চালুয়াহাটি গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তামিম ইকবাল ওই গ্রামের ফারুক হোসেন দপ্তরীর ছেলে। সে স্থানীয় চালুয়াহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। অভিযোগ করা হচ্ছে পাশের বাড়ির মুজির আলীর ছেলে রেজওয়ানের সাথে মারামারি করার কারণে তামিমকে হত্যা করে লাশ তাদের (তামিমদের) ঘরে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে মুজির আলীর স্ত্রী পলি বেগম। ওই সময় তামিমের পিতা-মাতা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। আর ঘটনার পরপরই দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন মুজির আলী। তবে পুলিশ বলছেন, ওই শিশু ঘরের আড়ার সাথে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার দেহে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তামিমের পিতা ফারুক হোসেন দপ্তরী বলেন, আমার স্ত্রী সকালে নওয়াপাড়া আকিজ জুট মিলে কাজে চলে যায়। আমিও এক আত্মীয়র বাড়িতে বিচলি আনতে যায়। বাড়ি এসে ১১টার দিকে ঘরে ঢুকতে যেয়ে দেখি ভিতর দিয়ে দরজা লাগালো। ঘরের দুটো দরজা। অন্য দরজা খুলতে যেয়েও দেখি ভিতর দিয়ে লাগানো। তখন উপর দিয়ে উঠে দেখি আমার ছেলের লাশ ঝুলছে। মা নাসিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শনিবার সকালে আমি কাজের উদ্দেশে বের হই। কিছুদূর যাওয়ার পর ছেলের মৃত্যুর খবর পাই। পাশের বাড়ির মুজিরের বউ পলি আমার ছেলেরে বাইরে থেকে মারতে মারতে ঘরে এনে খুন করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে উপর দিয়ে বেরিয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, পলি বেগম খুব চঞ্চল নারী। তার সন্তানদের সাথে কোন শিশু মারামারি করলে সে ওই শিশুকে মারধর করে। শনিবার সকালেও পলি তামিমকে ধরে মারতে মারতে বাড়িতে নিয়ে আসে। স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য তাসলিমা খাতুন ও ইউপি মেম্বর জিয়াউর রহমান বলেন, এটা আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা বোঝা যাচ্ছে না। এত ছোট একটা শিশু আত্মহত্যা করতে পারে বলে মনে হয় না। আবার ঘরের ভিতর দিয়ে দরজা লক করা ছিল। তা দেখেও সন্দেহ হচ্ছে। তবে সকালে পলির ছেলে রেজওয়ানের সাথে তামিমের মারামারি হয়েছে। মণিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিশুটি আত্মহত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest