ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২০
ভোলা প্রতিনিধি :-বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের আলিমাবাদ ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বিজিএফ এর সরকারি পুনর্বাসন এর চাল পরিমানে কম দেওয়া জেলে কার্ডধারীদের চাল না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই চালের দাবীতে জেলেরা বিক্ষোভ মিছিল ও চেয়ারম্যান এর অনিয়ম এর অভিযোগ এনে শাস্তির দাবী করেন। এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কে জানালে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানায়।
জানা যায় যে, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও আলিমাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ শহীদের বিরুদ্ধে জেলেদের জন্য বিজিএফ এর চাল বিতরনে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
বরাদ্দ কৃত চাল একদিকে দেড়িতেঁ জেলেদের দেয়া অন্যদিকে জেলেদের জন্য যে বরাদ্দ আসছে তার থেকে চালে কম দেয়া, তালিকায় অন্য পেশাজীবীদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। জেলেরা বলছে প্রত্যেক জেলেকে ৪ মাসে ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও (ফেব্রুয়ারী-মার্চ) দুমাসের ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ কেজি করে চাল। তাছাড়া জেলের তালিকায় রয়েছে অন্য পেশাজীবীদের নাম। এমনকি স্থানীয় মেম্বাররা প্রকৃত জেলেদের কাছ থেকে কার্ড নিয়ে টাকার বিনিময় অন্য পেশাজীবীর কাছে কার্ড দিয়ে দেয় বলে অভিযোগ এর প্রমান মিলেছে। ফলে প্রকৃত জেলেরা চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। সোমবার সরজমিন ঘুরে দেখা যায় যে, সকালে জেলেদের নামে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ এর চাউল বিতরনের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে করোনার ঝুঁকি নিয়ে চাল বিতরন করেন।
জেলেরা জানায়,চেয়ারম্যান শেখ শহীদ জেলে প্রতি প্রতি ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও জন প্রতি ৬০ কেজি করে চাল বিতরন করেছে। এমনকি অনেক নিবন্ধিত জেলেদের চাল না দিয়ে পছন্দমতো লোকদের স্লিপ এর মাধ্যমে চাল বিতরন করেন। ফলে প্রকৃত অনেক জেলেই সরকারি বরাদ্ধ কৃত ভিজিএফ এর চাল থেকে বঞ্চিত হয়। চাল না পাওয়া জেলেরা পরে চাল এর দাবীতে বিক্ষভ মিছিল করে।
জেলেরা আরো বলেন,সরকারের নিষেধ মতো নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখছি। এখন বেকার। পুনর্বাসনের চাইলের আশায় ছিলাম। অনেক জাইল্যা চাইল পাইছে। আমাদের জাইল্যা কার্ড থাকতেও চেয়ারম্যান সাব আমাগোরে চাউল দেয়না। এখন তো আমাদের সকলকে না খাইয়া মরতে হবে। করোনার কারনে সব দোকান পাডও বন্ধ। এখন আমরা কিরুম। বর্তমানে এই ইউনিয়নের কয়েকশ জেলে কার্ড থাকা সত্তেও জেলে সহায়তা না পেয়ে চরম কষ্টে দিন পাড় করছে। তারা আরও বলেন, একে তো চাল কম দেয় অন্য দিকে প্রকৃত জেলেদের চাল না দিয়ে বাকি চাল চেয়ারম্যান শেখ শহীদ আত্মসাৎ করেছে। আমরা জেলে পরিবার দেশের এই দুঃসময়ের বরাদ্দকৃত চাল পাওয়ারর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এবং দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান শেখ শহীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে বলে জানায়।
এদিকে আলিমাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ শহীদ জানায়, সরকারি নিয়ম অনুয়ায়ী প্রকৃত জেলেদের স্লিপ এর মাধ্যমে ট্যাগ অফিসার ও ইউনিয়ন সচিব এর উপস্থিতে চাল বিতরন করছি। কোন অনিয়ম করা হচ্ছেনা। কেউ কম পেলে হয়ত সামান্য কম হতে পারে। তবে বেশি নয় বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিজুস চন্দ্র দে জানায়, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী জেলেদের জন্য ভিজিএফ এর চাল প্রকৃত জেলেরা যদি চাল কম পায়,কিংবা কেউ চাল পায়নি এমন অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে প্রমান মিললে স্থানীয় সরকার


© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ Developed By Agragami HOST