নীলফামারীর সৈয়দপুরে সমবায় সমিতির নামে চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সমবায় সমিতির নামে চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর,রংপুর ব্যুরো \ নীলফামারীর সৈয়দপুরে সমবায় সমিতির নামে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে ঋণ প্রদান করে কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে রমরমা সুদের ব্যবসা চলছে। শতকরা ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত সুদ আদায়সহ বার্ষিক মেয়াদের পরিবর্তে মাসিক মেয়াদে সুদাসল আদায় করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় গ্রাহকরা এনজিও’র আদলে গড়া এসব সমিতির খপ্পরে পড়ে অতিরিক্ত সুদ প্রদান এবং স্বল্প সময়ের ঋন পরিশোধের ফলে পুজি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ছে। সমবায় সমিতি হিসেবে রেজিষ্ট্রেশন নেয়া হলেও এক্ষেত্রে সমবায় আইন বা নিয়ম মানছেনা প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি সরকারী ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবারের দিনেও তারা কিস্তি আদায় করছে। যা সম্পূর্ণভাবে আইন বিরুদ্ধে ও অবৈধ কারবার। সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগ এলাকায় রেলওয়ের পাওয়ার হাউস এর সামনে প্রধান অফিস খুলে অবিনশ্বর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ ওই এলাকায় কোন ব্যবসায়ীই নেই। যারা এই সমিতির সদস্য হবেন। মূলতঃ সমবায়ের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সুদের রমরমা ব্যবসা করার লক্ষ্যেই স্থানীয় সমবায় অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সমিতি গঠন করেছে। এই সমিতির মাধ্যমে নিজেদের এনজিও পরিচয় দিয়ে নামে বেনামে সদস্য সংগ্রহ করে কোন রকমে ঋণ গছিয়ে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ২০% থেকে ৩৫% পর্যন্ত সুদ আদায় করা হচ্ছে। ঋনের কিস্তি দৈনিক হারে উত্তোলন করাসহ সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবসে সরকারী ছুটির দিনও আদায় করা হচ্ছে ঋন ও সুদের কিস্তি। এছাড়া তারা বার্ষিক মেয়াদের পরিবর্তে মাসিক বা ত্রৈমাসিক মেয়াদে ঋণ প্রদান করছে। যা সম্পূর্ণরূপে সমবায় আইন বা দেশের প্রচলিত বেসরকারী আর্থিক সংস্থার নিয়ম নীতির বিপরিত। এভাবে তারা অতিরিক্ত সুদ আদায় এবং সরকারী আইন ও নিয়ম ভঙ্গ করলেও স্থানীয় সমবায় অফিস এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় গ্রাহকরা প্রতারণা শিকার হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত সুদ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কয়েকজন গ্রাহক জানান, অবিনশ্বর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পরিচালক সুমন নিজেদের এনজিও পরিচয় দিয়ে অল্প সুদের অধিকহারে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাদের সদস্য করেছে। এরপর সঞ্চয় করার মাধ্যমে গচ্ছিত টাকা ফেরত না দিয়ে এর বিপরীতে আমাদের ঋণ নিতে বাধ্য করেছে। যা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আদায় সহ মাত্র ১ মাস বা ৩ মাস মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য করছে। এতে আমরা ঋণ নিয়ে চরম বিপদে পড়েছি। অথচ সদস্য করার সময় বলা হয়েছিল অন্যান্য এনজিও যেভাবে পরিচালিত হয় সেভাবেই পরিচালনা করা হবে এই সমিতি। এ ব্যাপারে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান জানান, সমবায় সমিতিগুলো কোনভাবেই সমবায় আইনের বাইরে পরিচালিত হতে পারেনা। তারা নিজস্ব কমিটি করে আইন বহির্ভূত কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এদেরকে সরাসরি জেলা অফিস কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশন দেওয়ায় আমরা কোন হস্তক্ষেপ করতে পারছিনা। তবে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest