রয়েছে বিভাগীয় মামলা- ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার করছেনা হোসেনপুর থানা পুলিশ

প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

রয়েছে বিভাগীয় মামলা- ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার করছেনা হোসেনপুর থানা পুলিশ

মো: রিয়াজুল ইসলামঃ শিশু ও নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা স্বত্বেও গ্রেফতার করছেনা কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেন পুর থানা পুলিশ। জানা গেছে , আসামী কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানার গড়মাছুয়া গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে কনস্টেবল মোঃ মোজাম্মেল হক। তার বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রীর দায়ের কৃত জামালপুর আদালতে চলছি বছরের ১লা জানুয়ারী মোজাম্মেল ড্রাইভার কনস্টেবল ২৬৩৬৫ পরিবহন বিভাগে, ডিএমপি ঢাকার বিরুদ্ধে প্রধান আসামী করে শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে ৪৩/১৯ নং মামলা দায়ের করেন। মামলার ২ নং আসামী মোজাম্মেলের ভাই রুবেল ও ৩ নং আসামী রুনা আক্তার। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে জামালপুর আদালত গত ২৭ শে নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে হোসেনপুর থানা বরাবর একটি গ্রেফতারী ওয়ারেন্ট ইস্যু করে। ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ার পর বিশ দিন অতিবাহিত হলেও আসামিকে গ্রেফতার করছেনা হোসেনপুর থানা পুলিশ। অথচ আসামী তার কর্মস্থলে ঠিকমত ডিউটি করছে। আর পুলিশ তাকে খুজে পাচ্ছেন। বিভাগীয় মামলার দাগী আসামী কিভাবে ডিউটি করে এমন প্রশ্ন জনমনে। উল্টো মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দিচ্ছে। তার বিরুদ্ধে জামালপুর জেলা জর্জ কোটে মোট ৪ টি মামলা আছে যার বাদী তার স্ত্রী লাকী আক্তার। গত ২৭ শে নভেম্বর একটি মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যুতে পল্টন থানা পুলিশ গ্রেফতার করলে ৭ দিন কারাভোগের পর জামালপুর আদালত থেকে জামিম নেন। শুধু তাই নয, মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে মাননীয় আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে। বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে আরো জানা যায়, ড্রাইভার কনস্টেবর মোঃ মোজাম্মেল হক গত ১২/১/২০১৫ তারিখে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার পাথালিয়া ইউপির হরিপুর গ্রামের লালমিয়া আকন্দের মেয়ে মোসাঃ লাকী আক্তার (বর্তমান ২৯) এর সহিত ঢাকার বারিধারায় একটি কাজী অফিসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু বিবাহের পর নানা অযুহাত দেখিয়ে মেয়ের পিতার কাছ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। এবং নিকট আত্মীয় থেকে প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণের জিনিস নিয়ে বিক্রি করেন, এমনকি মোজাম্মেল গত ৫ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬ ইং তার স্ত্রী লাকী আক্তারকে না জানিয়ে তার নিজস্ব জেলার হোসপনপুর থানার জামাইল ইউপির ধনকুড়া গ্রামের আবু তাহেরের মেয়ে (মোজাম্মেলের চেয়ে বয়সে ১০ বছরের বড়) মেয়ে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন। এখানেই শেষ নয়, মোজাম্মেল হক লাকী আক্তারকে কোন খরচাদি বহন করছেন না। উল্টো তাকে নানা অযুহাত দেখিয়ে তার পিতার নিকট টাকা দাবী করার হুমকি দিয়ে আসছে। লাকি আক্তার তার বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে, সে ঢাকায় একটি চাকরিও করতেন, তবে তার গর্ভে একটি সন্তান আসায় চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তার কর্মক্ষম বৃদ্ধ পিতার সংসারেও দেখা দিয়েছে অশান্তি, অভাব আর অনটন। লাকিকে অবহেলার কারনে সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বরাবর অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মোজাম্মেলকে ২ বছরের ইনক্রিমেন্ট আটকে দেয়, তাতেও ভাল না হলে লাকি আক্তার পূনরায় ডিএমপির পরিবহন শাখার এসি এডমিন দ্বীন মোহাম্মদের কাছে অভিযোগ করলে তার বেতনের ৩ টি ভাগ করে প্রথম স্ত্রীকে ১ ভাগ, দ্বিতীয় স্ত্রীকে ১, ভাগ আর তার নিজের জন্য এক ভাগ করে বন্টন করে দিয়ে দুজনকে মিলিয়ে দেয়। এরপর মোজাম্মেলও পূর্বের মত বাসায় আসতে থাকে। এভাবে কয়েকদিন কেটে গেলে মোজাম্মেল আবার আগের ধারায় ফিরে আসে। লাকী আক্তার আবারো তার কর্মস্থলে গিয়ে পূনরায় অভিযোগ দিলে সিনিয়র অফিসাররা তাকে ডেকে পাঠান। সবার উপস্থিতিতে এক পর্যায়ে লাকী তার স্বামীকে বলে, তোমার ছেলেকে একটু ছুয়েও দেখলানা? উত্তরে মোজাম্মেল হককে বলে, না ও মরে না কেন? সবার সামনে সন্তানের এমন মৃত্য কামনা করা যে তার কাল হয়ে দাঁড়াবে মোজাম্মেল তা বুঝতে পারেনি। এ ধরনের বেয়াদবির অপরাধে তাকে গুরুদন্ডও দেয়া হয়। তার পরেও টাকা পয়সা না দেয়ায় লাকি আক্তার তার অধিকার আদায়ের জন্য আবার জামালপুর আদালতে মামলা দায়ের করে। রাষ্ট্রপতির এলাকার লোক পরিচয়ে স্ত্রী লাকিকে কল দিয়ে মামলা তুলে নিতেও হুমকি প্রদান করে। বর্তমানে হোসেনপুর তার গ্রামের বাড়িতে সবাই জানে প্রথম স্ত্রী লাকীকে টাকা পয়সা দিয়ে বিদায় করেছে। আসলে মোজাম্মেল হক যে কত বড় বিপদে আছে তা কেহ অনুধাবন করছে না।
তার চাকুরীর খতিয়ান বহি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৩০ শে ডিসেম্বরন ২০১১ ইং পুলিশ বাহিনীর কনস্টে¦ল পদে যোগদান করেন নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি, তিনি গত ২৭ আগস্ট ২০১৬ ইং ডিএমপিতে যোগদান করে এখনো চার মামলার আসামী হয়েও রয়েছে বহাল তবিয়তে। এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি তা রিসিভ করেন নি।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest