দেওয়ানগঞ্জে জিংক ধানের বীজ বিতরণ l

প্রকাশিত: ২:২০ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২১

দেওয়ানগঞ্জে জিংক ধানের বীজ বিতরণ l

ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় হারভেস্ট প্লাস এর উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে জিংক ধানের বীজ বিতরণ করা হয়।
ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে বিংস প্রকল্পের আওতায় হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ এর উদ্যোগে উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চর খড়মা(গলিপাড়া) ২৭ জুন রবিবার কৃষকদের মাঝে জিংক ধানের বীজ বিতরণ করা হয়। দেওয়ানগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ছামিউল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন , জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা সাইফুল আজম খান। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, হারভেস্টপ্লাস বিংস প্রকল্পের সমন্বয়কারী কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান খাঁন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: আবুল হাছান রাজু, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্বাস উদ্দিন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আহম্মেদ, সাংবাদিক খাদেমুল ইসলাম, ডিপ্লোমা কৃষিবীদ সুব্রত রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, হারভেস্টপ্লাস বিংআগ্রহ স প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার পলাশ চন্দ্র গোস্বামী। অনুষ্ঠানে শতাধিক পরিবারের মাঝে ৪ কেজি করে ব্রি ধান৭২ এবং বিনাধান-২০ এর বীজ বিতরণ করা হয়। জানা যায়, জামালপুর জেলার সদর, ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় মোট ৩ হাজার চাষীর মাঝে আমন মৌসুমে ২০২১ এ জিংক ধানের বীজ বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা সাইফুল আজম খান তার বক্তব্যে বলেন, হারভেস্টপ্লাস বিংস প্রজেক্ট, বিএডিসি থেকে জিংক সমৃদ্ধ এই ধান সরবরাহ করে আসছে। যার বীজের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো। তিনি বলেন, জিংক সমৃদ্ধ খাবার খেলে ছেলে মেয়েরা খাটো হয় না। শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধার বিকাশ ঘটে। ক্ষুধা-মন্দা দূর করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ব্রি ধান ৭২ এর ফলন বিঘা প্রতি ২০-২৫ মণ, গড় জীবনকাল ১২৫-১৩০ দিন, চালের আকার আকৃতি লম্বা, মোটা ও রং সাদা। প্রতি কেজি চালে ২২.৮ মিলিগ্রাম জিংক ও ৮.৯ ভাগ প্রোটিন আছেন বিনাধান- ২০ এর গড় জীবনকাল ১২৫-১৩০ দিন, বিঘা প্রতি ফলন ১৫-২০ মণ, চালের আকৃতি লম্বা, চিকন এবং রং লালচে। প্রতি কেজি চালে গড়ে ২৬.৫ মিলিগ্রাম জিংক আছে। যেহেতু ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য সুতরাং করোনা মহামারীর মধ্যে এই জিংক সমৃদ্ধ জাতগুলি বেশি বেশি চাষাবাদ করে খাদ্যের পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার জন্য আমরা কৃষকদের উৎসাহ প্রদান করছি। বিশেষ অতিথি হারভেস্টপ্লাস বিংস প্রকল্পের সমন্বয়কারী কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান খাঁন বলেন, এই জিংক সমৃদ্ধ জাতগুলি পুষ্টির পাশাপাশি বেশি ফলন দেওয়ার সক্ষমতা আছে। তাই কৃষকদের এই জাতগুলি চাষাবাদের পাশাপাশি বীজ সংরক্ষণ করা, জিংক ধানের বাজার উন্নয়ন ও জিংক চালের ভাত খাওয়ার প্রতি আলোকপাত করেন। বিশেষ অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: আবুল হাছান রাজু বলেন, জিংক শিশুদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জিংকের অভাবে কিশোরী ও গর্ভবতী মায়ের শারিরীক দূর্বলতা দেখা দেয়। গর্ভের সন্তানের স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দৈনিক শিশুদের ৩-৫ মিলিগ্রাম ও মহিলাদের ৮-৯ মিলিগ্রাম জিংকের প্রয়োজন পড়ে। যা আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করে থাকি। প্রকৃতপক্ষে, আমরা যদি জিংক সমৃদ্ধ ধান উৎপাদন করে তা নিজেদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করি তাহলে এই জিংকের ঘাটতি অনেকাংশে কমে যাবে।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest