করোনার কারণে চলছে সরকারি ছুটিঃ স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল

প্রকাশিত: ৮:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২০

করোনার কারণে চলছে সরকারি ছুটিঃ স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল
এসএম স্বপন,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ করোনার কারণে দেশে সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় সারা দেশের মানুষ নিজ গৃহে বন্দী হয়ে পড়েছে। সেই সাথে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের সমস্ত কার্যক্রম। তারই জেরে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল। সেই সাথে বেকার হয়ে পড়েছে বন্দর সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার শ্রমিক। এছাড়া বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কয়েকশত এনজিও কর্মীরাও একই অবস্থায় পড়েছে। ভারত দিয়ে আমদানি-রফতানি বানিজ্যের সিংহ ভাগ পণ্য আসে এই বন্দর দিয়ে। গত ২৪ মার্চ থেকে বৃহত্তর বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বানিজ্য বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সহ সাধারন মানুষ। বিশ্বের ১৯৯ দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস ভয়াবহ রুপ ধারন করায় বেনাপোল পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বানিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে, একদিকে সাধারন মানুষ যেমন বিপাকে পড়েছে তেমনি অর্থনৈতিক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার। প্রতিদিন সরকার বেনাপোল বন্দর থেকে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। এপথে ভারত থেকে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ শত ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। অপরদিকে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রায় ১ থেকে ২ শত রফতানি পণ্য বাহি ট্রাক যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভারতের সাথে বেনাপোলের সুবিধাজনক হওয়ায় এপথে আমদানি-রফতানি বানিজ্য বেশি হয়ে থাকে। করোনা ভাইরাসের কারনে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ধস নেমে যায়। আর এরই পাশাপাশি সব থেকে বেশি অসুবিধায় পড়ে এই অঞ্চলের বন্দর সংশ্লিষ্ট সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। এই বন্দরে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক কাজ করে। এছাড়া কাস্টমস ও বন্দর অফিসে অনেক এনজিও কর্মীও কাজ করে। তারা সারাদিন কাজ করে যা পায় তাই দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোই চলে যায় তাদের সংসার এমনই কথা জানালেন বেনাপোল বন্দরের কয়েকজন এনজিও কর্মী। বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সজিব হাসান বলেন, আমরা এখানে কাজ করে যে টাকা পাই তাতে ভাল ভাবে সংসার আমাদের সংসার চলে যায়। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারনে সকল প্রকার লোড-আনলোড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা শ্রমিক সহ সকলে পড়েছি অসুবিধায়। বেনাপোল বন্দরের আমদানি কারক ঢাকার ফ্যাশান ট্রেডার্সের মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে দেশ লক ডাউন চলায় শিল্পকলকারখানার উৎপাদন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি এসব শ্লিল্প কারখানার শ্রমিকরাও বসে বসে দিন কাটাচ্ছে। ফলে মালিকরা পড়েছে লোকশানে। সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে আমদানি পণ্যবাহী কয়েক হাজার ট্রাক বেনাপোলের ওপারে আটকে আছে। আর বেশি অসুবিধা হচ্ছে পঁচনশীল পণ্যে। এপথে পিঁয়াজ, মাছ, পান সহ অনেক পঁচনশীল পণ্য আমদানি হওয়ায় অনেক পণ্য আটকে আছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest