ভোলায় খালে মুরগীর খামারের বর্জ্য ফেলায় মাছের খামার হুমকীর মূখে

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৯

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার সদর উপজেলার আন্দিরখালে ফেলা হচ্ছে মুরগীর খামারের বর্জ্য। খালের সঙ্গে মিশেছে সহ¯্রাধিক সৌচাগারের(টয়লেট) সংযোগ পাইপ। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিক। একই সঙ্গে খালের তীরের মানুষ খালের পানি ব্যবহার করছে। দীর্ঘ্যকাল ধরে খালের তীরে বসছে শতাধিক ধর্মজাল। খালের পানিতে তাই বর্জ্য ফেলা বন্ধ ও খাল খননের দাবিতে উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত মৎস্য ব্যবসায়ী সফিউল্যাহ মাল রোববার সকালের দিকে ভোলার একটি পত্রিকার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ও ইতিপূর্বে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসক বরাবর একই দাবিতে আবেদন করেছেন। ভোলা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার(ভুমি) নির্বাহী হাকিম মো. কাওসার হোসেন বলেন, ওই মৎস্য ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে মুরগীর (ভোলা পল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী) বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগপত্র পাওয়ার পরে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভোলা পল্ট্রি এন্ড হ্যাচারীর ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। ওই সময় খালে আর বর্জ্য ফেলবে না বলে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল লোকজন মুচলেকা দিয়েছেন।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার বলেন, খালটি খননের কোনো বরাদ্দ নেই। ভোলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, অভিযোগপত্র পাওয়ার পরে তাঁরা মুরগীর খামার পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন। পরে খামারের মালিক একেএম কামরুল আহসান ও মো. লাভলু হাওলাদারকে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নোটিশ প্রদান করেছেন। তাদের যেনো খালে খামারের বর্জ্য না ফেলেন হয়, তার ব্যাপারেও পরামর্শ দিয়েছেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আন্দিরখালটি ভোলা খালের শাখা খাল। সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে উঠে খালটি ধনিয়া ইউনিয়নের কানাইনগর বিলে শেষ হয়। যার দৈর্ঘ্য ১০-১২ কিলোমিটার। এ খালের তীরে বসেছে কয়েকশ ধর্মজাল। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় অনেকগুলো বন্ধের পথে। খালের সঙ্গে কয়েকশ টয়লেটের পাইপ মিশেছে। কানাইনগর গ্রামে সড়কের পাশে ভোলা পল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী। সেখানে ৫টি মুরগীর টিনসেড। বর্জ্যগুলো পড়ছে টিনসেডের নিচে মাছের খামারে। প্রতিদিন পানি পরিবর্তন হচ্ছে। ওই পানি ভাটায় খালে ফেলছে। আবার খাল থেকে জোয়ারে পানি তুলে খামারে দেওয়া হচ্ছে। খামারের আশপাশের পরিবেশ দুর্গন্ধময়। সফিউল্যাহ মাল জানান, ভোলা শহর থেকে ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি লঞ্চঘাটে যাওয়ার পথে ইউনিয়নের কানাই নগর এলাকায় রাস্তার পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ভোলা পল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী। প্রতিষ্ঠানের মালিক একেএম কামরুল আহসান ও মো. লাভলু হাওলাদার। খামারটিতে প্রায় ৪-৫ হাজার মুরগী পালন করছেন। মুরগীর ফার্মের সঙ্গে তাঁরা মাছের চাষ করছেন। ওই খামারের বর্জ্য মাছের খামারে ও খালের পানিতে ফেলছে। তিনি আরও জানান, বর্জ্যে খালের পানি ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রæত খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। খালের পানি নষ্ট হওয়ার কারণে এলাকার ১০টি মাছের খামার বন্ধের পথে। তার মধ্যে সফিউল্যাহ মালের তিনটি মাছের খামার রয়েছে। তাঁর খামারগুলো গত দেড় যুগ ধরে সফলভাবে মাছের আবাদ করে আসছে। সফিউল্যাহ মাল ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারী হিসাবে পুরষ্কার পেয়েছেন। খালের নাব্যতা হ্রাস ও পানি নষ্ট হওয়ার কারণে তিনি সেই খামারে পানি ওঠাতে পারছেন না। খামারের বর্জ্যের কারণে তাঁর স্বপ্নের মাছের খামারটি ধ্বংস হতে চলেছে। পানির অভাবে সময়মতো মাছ ছাড়তে পারছেন না। আরও জানান, মুরগীর খামারটির সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। তারপরেও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আশপাশের মানুষকে চরম ভোগান্তীতে ফেলে খামারটি চলমান আছে। খামার মালিক প্রভাবশালী হওয়ার কারণে এলাকার মানুষ চুপ আছে। তিনি নিজের স্বার্থে প্রতিবাদ করেও হুমকীর শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় সফিউল্যাহ আন্দির খাল খনন ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করেছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান দুটি তদন্ত করে সতর্ক করলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার হয়নি। তাই সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সফিউল্যাহ মালের অভিযোগ অস্বীকার করে খামার মালিক একেএম কামরুল আহসান বলেন, ব্যাংকের বিশাল ঋণের টাকা পরিশোধ না করার তালবাহানায় পরিবেশ দূষণের তালবাহানা করছে সফিউল্যাহ মাল। তাঁর মাছের খামার দেউলিয়া দেখাতে চাচ্ছেন। তাঁরা সরকারের সকল নির্দেশ মেনেই খামারটি পরিচালনা করছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest