সখীপুরে সরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে মামলা; ইউএনও ও থানার ওসিকে হাইকোর্ট তলব

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

সখীপুরে সরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে মামলা; ইউএনও ও থানার ওসিকে হাইকোর্ট তলব

শহিদুল ইসলাম সোহেল,ময়মনসিংহ ব্যুরো : টাঙ্গাইলের সখীপুরে সরকারি পুকুর ইজারায় জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে ধমকানোর অভিযোগে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তলব করেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সঠিক কিনা এ বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য ১৭ ডিসেম্বর তাদের আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনকারী অপু আহমেদ এর পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী আ্যডভোকেট তপো গোপাল ঘোষ ও তাঁর সহকারী আ্যডভোকেট মনোয়ার মোর্শেদ শিশির সহ বিজ্ঞ আইনজীবীগণ।। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুল আলম ও প্রহ্লাদ দেবনাথ। সাইফুল আলম জানান, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চুংগার পুকুর বরাদ্দে অনিয়ম নিয়ে করা আবেদনের শুনানিতে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। আইনজীবীরা জানান, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে তথ্য না দিয়ে তার পরিচয় যাচাই এবং রিট আবেদনকারীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে ললব্যাখ্যা দিতে টাঙ্গাইলের সখীপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসিকে লতলব করেছেন হাইকোর্ট। আবেদনকারী আইনজীবী তপু গোপাল ঘোষ জানান, টাঙ্গাইলের সখীপুরের গজারিয়ার একটি সরকারি পুকুর ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতা অপু আহমেদ না দিয়ে তার চেয়ে কম দরদাতাকে দেয়া হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অপু আহমেদ হাইকোর্টে রিট করেন। পরে আদালত এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তাকে খোঁজ-খবর নিতে বলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, ইউএনও এ বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। উনি ওসি সাহেবকে বলেন আইন কর্মকর্তার আইডেন্টিটি ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করার জন্য। আজকে মামলার যে বাদী অপু আহমেদ তাকে ফোন করে তারা ধমক দিয়েছেন, সে কেনো ঢাকায় অবস্থান করছেন। ব্যাপারটা হাইকোর্টের নজরে আনার পর আদালত এ আদেশ দেন। আদেশে ইউএনও-ওসিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরের নির্দেশ দেন। কেন তারা আবেদনকারীকে ধমক দিয়েছেন এবং আইন কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই ইজারা কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা জারির আদেশ দিয়েছেন। সাইফুল আলম আরও বলেন, আদালত বলেছেন-ওসিরা নিজেদেরকে জমিদার মনে করেন। জানা যায়, সর্বোচ্চ দরদাতা রিট আবেদনকারীর অপু আহমেদ এর ৪০,৫০০ টাকার আবেদনের বিপরীতে পুকুরটি মাত্র ৬,০৭৫ টাকায় মৃত সবদের আলীর পুত্র শহীদুর রহমানকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়শা জান্নাত তাহেরা স্বাক্ষরিত আদায় রশিদের (DCR) মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে (বহি নং H 14000, পৃষ্ঠা 19, চেক রশিদ নং ১২।৯।১৯) একই উপজেলার মৃত সবদের আলীর পুত্র শহীদুর রহমানকে।বর্তমানে তিনি নিয়মিত শ্রমিক হিসাব রক্ষক, হিসাব শাখা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সিটিউট (BRRI), গাজীপুরে কর্মরত আছেন।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest