রাজগঞ্জে ‘গোল্ড ব্রিকস’ উচ্ছেদ, জোর পূর্বক ভাঙার অভিযোগ মালিকপক্ষের

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২০

রাজগঞ্জে ‘গোল্ড ব্রিকস’ উচ্ছেদ, জোর পূর্বক ভাঙার অভিযোগ মালিকপক্ষের

উত্তম চক্রবর্তী, মণিরামপুর (যশোর): রাজগঞ্জে ‘গোল্ড ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা উচ্ছেদ করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। উচ্ছেদ কাজে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অংশ নেন।
উচ্চ আদালতের আদেশ অনুসারে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে আদালতের বেঞ্জ সহকারী সার্ভেয়ার আব্দুল মান্নান জানান। তবে, জোরপূর্বক ভাটা উচ্ছেদ করার অভিযোগ তুলেছেন মালিকপক্ষ।
ভ্রাম্যমান আদালত ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে উপজেলার রাজগঞ্জের হায়াতপুর এলাকায় আবুল হাসেম মন্টু নামে এক ব্যক্তি ‘গোল্ড ব্রিকস’ নামের ইটভাটাটি চালু করেন। তখন স্থানীয় কিসমত আরা নামে এক নারী বিনা অনুমতিতে তার তিন বিঘা জমি ভাটা মালিক দখল করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন। হায়াতপুর এলাকা সবজি চাষের জন্য উল্লেখযোগ্য এবং ভাটার চারপাশে সবজি ও ফসলের ক্ষেত রয়েছে। ইটভাটা হলে ফসলের ক্ষতি হবে এমন অভিযোগ তুলে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর নিয়ে ভাটা উচ্ছেদের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসসহ নানা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন কেসমত আরা। কোনপ্রকার কাজ না হওয়ায় অবশেষে তিনি উচ্চ আদালতের স্মরনাপন্ন হন। পরে আদালতের রায় তার পক্ষে আসে।
এদিকে গত বোরো মৌসুমে গোল্ড ব্রিকসের গরম হাওয়ায় হায়াতপুর মাঠের কয়েকশ’ বিঘা জমির ধান পুড়ে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হন। তখন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা ভাটা উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন করেন।
তবে গোল্ড ব্রিকসের মালিকপক্ষ জোরপূর্বক ভাটা উচ্ছেদের অভিযোগ তুলছেন। ভাটার ম্যানেজার হাসান বলেন, আমরা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র অনুমতি নিয়ে ২০১৭ সালে ইটভাটা শুরু করি। এরপর কেসমত আরা নামে এক নারী ভাটার এরিয়ায় তিন বিঘা জমি দাবি করে বিভিন্ন দপ্তরে মামলা করে। কিন্তু তিনি তার পক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এক বছর আগে আমরা হাইকোর্টের অনুমোদন নিয়ে ভাটা চালাতে থাকি। এরমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন কিসমত আরা। কিন্তু সেখানে ভাটা উচ্ছেদের কথা উল্লেখ নেই। (বৃহস্পতিবার) ভাটা উচ্ছেদ করতে আসলে ম্যাজিস্ট্রেটকে কাগজপত্র দেখাতে যাই। তিনি কাগজপত্র না দেখে ভাটা উচ্ছেদ করেন। উচ্ছেদের ফলে অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই বিষয়ে নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান বলেন, আদালতের আদেশ বলে এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী ভাটা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভাটা মালিক পক্ষের কোন অভিযোগ থাকলে জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest