দুমকি থানা পুলিশের উদ্দ্যোগে মাদক ছেড়ে নাসির এখন পিঠা বিক্রেতা

প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২০

দুমকি থানা পুলিশের উদ্দ্যোগে মাদক  ছেড়ে নাসির এখন পিঠা বিক্রেতা

 মোঃ জসিম উদ্দিন দুমকি(পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ কিছু দিন আগেও ছিলেন মাদকাসক্ত। মোঃ নাসির মৃধা। বয়স ৪০ এর অধিক। লেখা-পড়া তেমন জানেন না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোন কোন সময় অনাহারে দিন কাটাতে হয়েছে। মাঝেমধ্যে বাজারে মাছের ব্যাবসা করতেন। যে টাকা আয় করতেন তা চলে যেত মাদকের পিছনে। বর্তমানে তিনি মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। শুরু করেছেন শীতের নানান বাহারি পিঠা বিক্রির কাজ। এখন আর অনাহারে থাকতে হয়না। স্ত্রী সন্তান নিয়ে বেশ ভালোই আছেন তিনি। এতক্ষণ বলছিলাম পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রাামের বাসিন্দা নাসির মৃধার কথা। গত রবিবার থানাব্রিজ রাস্তার পাশে পিঠা খাওয়ার উদ্দেশ্যে তার দোকানে যাওয়া। কথার মাঝে হঠাৎ অকপটে বলে উঠলো এই থানার ওসি সার অনেক ভালো মানুষ। হে না ওইলে(থাকলে) আমি আর কখনো আলোর মুখ দেখতাম না। তখন তার কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও আমি নেশার মাঝে ডুবে থাকতাম। নেশা না করতে পারলে মাথা ঠিক থাকতো না। নেশার টাকা কোথা পেতেন? উত্তরে বললেন, দুমকি বাজারে মাঝেমধ্যে কুয়াকাটা থেকে মাছে এনে বিক্রি করতাম। তাতে যা লাভ হতো তা নেশার পিছনে চলে যেত। আপনার বাসায় কে কে আছেন এবং সংসার কিভাবে চলতো ? আমার দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় ছেলে ক্লাস ৭ম শ্রেণিতে পড়ে আর মেঝ মেয় ৫ম শ্রেণিতে এবং ছোট এক মেয়ে। পিতা হিসাবে আমি কোন দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। অভাব অনাটন লেগেই আছে। উপায় না পেয়ে আমার স্ত্রী বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছে। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। মাঝেমধ্যে না খেয়েও দিন কাটাতে হতো। এর মধ্যে হঠাৎ দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান স্যার আমাকে ডেকে লোক পাঠায়। আমি থানায় আসলে আমাকে নেশার জগত থেকে ফিরে আসতে বলেন। এবং আমাকে পটুয়াখালী নিয়ে যায় সেখানে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম স্যারের সামনে প্রতিজ্ঞা করি আর কোন সময় মাদক সেবন করবো না। পরে আমাকে থানা থেকে এখানে একটি দোকানসহ দোকানের সরঞ্জান কেনার জন্য আর্থিক ভাবে আমাকে সাহায্য করেন। এখানে পিঠা বিক্রি করে যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে ভালোমতোই ছেলে-মেয়র লেখাপড়াসহ সংসারের ব্যয়ে কোন সমস্যা হচ্ছেনা। তাই ওসি স্যারের উপকার আমি কখনো ভুলবো না। দুমকি থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ইতি মধ্যে আমরা পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান স্যারের নির্দেশনায় দুমকি থেকে ২৪ জনকে মাদকের ছোঁবল থেকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। তার মধ্যে নাসির একজন। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে তাদেরকে পূনর্বাসনের জন্য চেষ্টা করছি। এছাড়াও মাদক ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসা আত্মসমর্পণকারীদের পূনর্বাসনের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest