দাকোপে দেড়লক্ষ টাকার বড় বড় তরমুজের বিঘা বর্তমানে মাত্র ৪/৫ হাজার টাকা। চাষিরা দেনার চিন্তায় পাগলপ্রায়।

প্রকাশিত: ৩:০৮ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২২

দাকোপে দেড়লক্ষ টাকার বড় বড় তরমুজের বিঘা বর্তমানে মাত্র ৪/৫ হাজার টাকা। চাষিরা দেনার চিন্তায় পাগলপ্রায়।

গোলাম মোস্তফা খান,দাকোপ,খুলনা

এখনও দিনরাত ২৪ ঘন্টা তরমুজ বহনের ট্রাকের শব্দে কান,মাথা ঝালাপালা,ধুলায় রাস্তায় বের হওয়া দায়। যখন তরমুজের কোন মুল্য নেই তখন কি ট্রাকের এমন উপদ্রব ভাল লাগে, চালনাবাজারে চায়ের দোকানে বসে শনিবার সকাল ১০টায় বেশ কয়েকজন মুরুব্বি এমন আলোচনা করছিল। যদি গতবছরের মত উপযুক্ত মুল্যে তরমুজ বিক্রি হতো দাকোপের চাষিরা টাকা পেত তাহলে এমন যানজট,কান ফাঁটানো শব্দ না হয় মানতাম,তরমুজ নিচ্ছে এক প্রকার ফ্রি তখন কি ট্রাকের এ অত্যাচার কারো কাছে ভাল লাগবে ? লক্ষ টাকার বিঘার তরমুজ যদি ৪/৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সারাদিন ট্রাক ভর্তি করতে থাকে তখন কেমন লাগে তরমুজ চাষিদের।বিশেষ করে দাকোপে তরমুজের কোন মুল্য কোন ব্যাপারি দিতে রাজি না,কারন হিসাবে তারা বলছে পানখালি, পোদ্দারগনজ,ফেরিপারাপার হয়ে আমাদের তরমুজ আনতে অনেক খরচ ট্রাক ভাড়া পূর্বের তুলনায় দ্বিগুন ফলে নাম মাত্র বিঘায় ৪/৫ হাজার টাকা দিয়ে ট্রাক ভর্তি করে দিনরাত এখনও ট্রাকের সারি।জানা গেছে এ সকল ৮/১০ কেজি ওজনের তরমুজ ঢাকা সহ বিভিন্ন দুরবর্তী জেলায় এখনও ২৫/৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি পিস শহরে বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা যা দাকোপে ৪/৫ টাকাও বিক্রি সম্ভব না কারন এখানে রাস্তার পাশে,ঘাটে, বিলে গুদামে গুদাম পড়ে আছে ফ্রি দিলেও কেউ এক পিস ছুয়েও দেখছে না। কোথাও কোথাও গোখাদ্য হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে তরমুজ। অনেকে কষ্টে রাগে বিঘা ৪হাজার টাকা না নিয়ে ফেলে রেখেছে ভুলেও ক্ষেতের দিকে তাকাচ্ছে না। অথচ এর চেয়ে ছোট সাইজের তরমুজ রমজান মাসে বিঘা বিক্রি হয়েছিল ১ লক্ষ ৩০/৪০ হাজার টাকায়।ধার দেনা করে যারা তরমুজ চাষ করেছিল তারা রাস্তার পাগল প্রায়।অনেক রাজনৈতিক নেতা,ছাত্রনেতা,জনপ্রতিনিধিরাও তরমুজ চাষ করেছিল সকলের একই অবস্থা। নতুন যারা ব্যাবসায় নেমেছিল যাদের পুজি ৫/৭ লক্ষ টাকার সব বিনিয়োগ করে একটি টাকায়ও বিক্রি করতে পারেনি তারা ধরা খেয়ে চরম হতাশায় ভুগছে।ইতিমধ্যে দাকোপে টাকার চিন্তায় বযস্ক ৬ ব্যাক্তি ষ্ট্রোক করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি বলে বিস্বস্থ সূত্রের খবর। দাকোপে এত দ্রুত এত দরপতনের মূল কারন যোগাযোগ ব্যবস্থা কারাপ,দালাল চক্রের কারসাজি,তবে পাশের বটিয়াঘাটা উপজেলার অবস্থা এত খারাপ না যোগাযোগ ভালার কারনে এখনও বিঘা ৩০/৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে কায়েমখোলার চাষি শামিম হোসেন ও ডেউয়াতলা গ্রামের সোহাগ ফকির জানান। দাকোপের লক্ষীখোলা গ্রামের আদি বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগনেতা শেখ আব্দুল কাদেরের পুত্র ব্যবসায়ী হিমেল শেখ তার বন্ধুদের নিয়ে ৫০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে। হিমেল কোন তরমুজ বিক্রি করতে পারেনি বরে জানা গেছে।জেলা যুবলীগনেতা আফজাল খান আনন্দনগর গ্রামে ১০ বিঘায় চাষ করেছিল সে প্রথম ৩/৪ বিঘার তরমুজ বিক্রি করতে পারলেও ঈদের পর আর বিক্রি হয়নি।আনন্দনগর গ্রামের শহিদুল মোল্যা ২৬ বিঘা,সাঈদ,জাহিদ,বাবুল শেখ ৩ ভাই ২৫ বিঘা,রোস্তম মোল্যা ২ বিঘা,মিসকাত মোল্যা ৪ বিঘা,শিক্ষক কৃষ্ণপদ ও একজন কলেজ প্রভাষক মিলে করেছিলেন ২৩ বিঘা,আয়ুব মোল্যা ৮ বিঘা,রাজ্জাক মোল্যা ৮ বিঘা,আছিফ খান ৪ বিঘা,খাটাইলের খোরশেদ মেম্বর ৭বিঘা,রাধিকা মন্ডল ৯বিঘা,হরিনটানার দেবু সরকার ৪০ বিঘা,সুশীল মন্ডল ৪ বিঘা,পারচালনার ওয়াছিক ইকবাল ১০ বিঘা জমিতে তরমুজ লাগিয়ে তরমুজ আজও বিক্রি করতে পারেনি, বিক্রির কোন সম্ভাবনা আর নেই,মাঠে পড়ে আছে তরমুজ।কোন মুল্য বলে না ফ্রি নিতে চায় কোন কোন ট্রাক মালিকরা। এ সকল চাষিদের কেউ কেউ গত বছর চাষ করে বিঘায় লক্ষ টাকা করে লাভ পাওয়ায় অধিক টাকা লাভের আশায় অনেক বেশি জমিতে, কেউ কেউ বর্গা নিয়ে বেশি বেশি জমিতে লক্ষ লক্ষ টাকা ধারদেনা করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ৩/৪ মাস রাত জেগে চড়া মুল্যের সার বীজ ব্যবহার করে মাঠে বড় বড় তরমুজ তৈরি করেও বিক্রি করতে না পারায় সকল চাষিরা পাগল প্রায়। তারা এখন কি করবে, কি খাবে,কোথায় যাবে,কি করবে, দেনা কিভাবে শোধ করবে সে চিন্তায় ঘুম নেই।এটা একটা বড় ধরনের জুয়া খেলার মত ঘটনা ঘটে গেল বলে অনেকের মন্তব্য।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest