নলছিটিতে দুটি আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটারের মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চলছে প্রসস্তকরণের কাজ

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২০

নলছিটিতে দুটি আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটারের মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চলছে প্রসস্তকরণের কাজ

হাসান আরেফিন, ঝালকাঠি :  নলছিটি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দুটি আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রসস্তকরণ কাজে সড়কের মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটি (খাম্বা) রেখেই প্রস্তকরণের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল-নলছিটি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও নলছিটি-হদুয়া পীর মোয়াজ্জেম হোসেন সড়কে গত ৬মাস ধরে চলমান কাজে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয়রা। সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছেমত কাজ চালাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকমাস আগে সড়ক দুটিকে ৬ ফুট বাড়িয়ে ১২ ফুট প্রস্থ থেকে ১৮ ফুট প্রস্থ প্রসস্তকরণের এ উন্নয়ন কাজ শুরু করে সওজের ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সড়কের পাশের মাটি কেটে বালি ভরাটের আগে নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ করে ফেলে রাখা হয় । এতে ওই সব সড়কের পাশে ওজোপাডিকোর বৈদ্যুতিক খুটিগুলোর গোড়া নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বৃষ্টিতে কাদামাটিতে একাকার হয়ে হেলে পড়েছে অধিকাংশ খুটি। যার ফলে ঘটতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা। পরে সাম্প্রতি বালি ভরাট করা হলেও সড়কের মাঝে খুটি রেখে কাজ করায় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। নলছিটির পীর মোয়াজ্জেম হোসেন সড়কের বাইপাশ সড়ক থেকে আখড়পাড়া বাজার পর্যন্ত ৫কিলোমিটার ও নলছিটি বাসষ্ট্যান্ড থেকে বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক (দপদপিয়া ফেরীঘাট) পর্যন্ত ৮ কিলোমিটারসহ মোট ১৩ কিলোমিটার সড়কের মাঝে ওজোপাডিকোর খুটি রয়েছে। পীর মোয়াজ্জেম হোসেন সড়কের হদুয়া বন্দর থকে আখড়পাড়া বাজার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় থাকায় ওই ১১ কিলোমিটার জায়গার কিছু খুটি অন্যত্র সরানো হয়েছে। যার ফলে সেখানে কাপেটিং কাজ শেষ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কাপেটিং সম্পন্ন হওয়া ওই সড়কের মাঝেও বেশ কিছ খুটি রেখেই দায়সাড়া কাজ শেষ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের দাবি নলছিটি বাসষ্ট্যান্ড থেকে মোল্লারহাট পীর মোয়াজ্জেম হোসেন সড়কের ৫ কিলোমিটারসহ ১৩ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য বিদ্যুৎতের খুঁটি সরানোর জন্য ওজিপাডিকো বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবারাহকারি প্রতিষ্ঠান ওজিপাডিকো বলছে , উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ার তিন মাস পরে তাঁরা গত ১৮ ডিসেম্বর চিঠি পেয়েছে। খুঁটি অপসারণে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে উভয় দপ্তরের উপসহকারি প্রকৌশলীদের নিয়ে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে সওজের ১জন ও ওজিপাডিকোর ৩জন উপসহকারি প্রকৌশলী রয়েছেন। এ কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে খুঁটি অপসারণ করে পুনরায় স্থাপন করতে প্রাক্কালিন ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। ব্যয় নির্বাহের টাকা পেলেই ওজিপাডিকো খুঁটি অপসারণ করবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার অপেক্ষা না করেই সড়ক ও জনপদ বিভাগ সড়কে খুঁটি রেখে ঠিকাদার দিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) ও ওজিপাডিকো সূত্র জানায় , গত বছরের আগষ্ট মাসের শেষের দিকে নলছিটি বরিশাল আঞ্চলিক মাহাসড়কের দপদপিয়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার ও নলছিটি-মোল্লারহাটের ৫ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে নলছিটি-মোল্লারহাটের সড়কটি হদুয়া পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটারের কাজ। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ কোটি টাকা। এই ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে নলছিটি-মোল্লারহাটের ৫ কিলোমিটারে প্রায় ৮৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। আবার নলছিটি-দপদপিয়ার ৮ কিলোমিটারের কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। এই সড়কের মধ্যে প্রায় ১০০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। এই ১৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ১৮৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। উভয় সড়কের পুরোনো ১২ ফুট প্রস্থের মূল সড়ক ১৮ ফুট প্রস্থে বার্ধিত করার লক্ষে সড়ক ও জনপদ বিভাগ এ উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে। এরমধ্যে দুই পাশে তিন ফুট করে ৬ ফুট প্রস্থে বৃদ্ধি করা হবে। মূল সড়কটি ১২ থেকে ১৮ ফুট প্রস্তে উন্নীত করায় বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সড়কের মধ্যে চলে এসেছে। তাই খুঁটিগুলো রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কামরুল এন্ড ব্রাদার্স কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতি মধ্যেই উভয় সড়কের বর্ধিত অংশ কাটা ও বালু ভরাট কাজ শেষ হয়েছে। খুঁটিগুলোর জন্য কাজে ধীরগতির পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়ও বেড়ে যাবে। কারণ পরবর্তীতে ওজিপাডিকোর এ খুঁটিগুলো অপসারণ করে নতুন করে স্থাপনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে। গত রবিবার দুপুরে পীল মোয়াজ্জেম হোসেন সড়কের বৈচন্ডী আড়াপোল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সড়কে খুঁটি রেখে সম্প্রসারনের জন্য মাটি কেটে বালু ভরাট করা হয়েছে। সম্পাসারিত জায়গায় বৈদ্যুতিক খুটি রয়েছে। সড়কে চলাচল করা পরিবহনগুলো খুঁটিগুলোকে পাশ কাটিয়ে ঝুঁকিনিয়ে চলাচল করছে। এ বিষয় পীর মোয়াজ্জেম হোসেন সড়কের ইজিবাইক মালিক সমিতির সভাপতি হুমায়ন কবির বলেন , এটি একটি অপরিকল্পিত কাজ। বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে সড়কের কাজ শুরু করা উচিৎ ছিলো। এতে দূর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে। ইজিবাইক চালক বৈচন্ডী গ্রামের মো. খলিলুর রহমান বলেন, এ অবস্থায় সড়কের কাজ শেষ হলে সড়কের বর্ধিত অংশ জনগনের কোন উপকারে আসবেনা। পরে খুঁটি সরাতে ভোগান্তি ও খরচ দুটোই বাড়বে। মল্লিকপুর এলাকার ব্যবসায়ী রিপন গাজী বলেন , নলছিটি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়ত করে। সড়কটি দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে বেহাল দশা ছিলো। তাই দ্রুত সড়কটির মধ্যে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে কাজ সম্পন্ন করা উচিৎ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কামরুল এন্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক শেখ এনামুল হক বলেন , খুঁটি সরানোর জন্য সড়ক বিভাগের মাধ্যমে বিদ্যুত বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। তাঁরা খুঁটি সরানোর ব্যবস্থা করলে আমাদের কাজ করা সহজ হবে। কাজের সময় সীমা ঠিক রাখতেই খুঁটি না সরিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করা হয়েছে। পরে অসুবিধা হবেনা। এ ব্যাপারে ওজোপাডিকোর নলছিটি আবাসিক প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন সন্যামত বলেন, সড়ক দুটিতে উন্নয়ন কাজ শুরুর পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে কোন যোগাযোগ রক্ষা করেনি। তারা খুটিগুলোর গোড়ার মাটি কেটে নড়বড়ে করে ফেলেছে। যার ফলে প্রায় সব খুটি গুলোই হেলে পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ খুটি সরানোর উদ্যোগ নেয়ার পর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা খুটি সরানোর


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest