আজ-১৯শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং

বাগরি মার্কেট জ্বলছেই বাড়ির ফাটল চওড়া হচ্ছে, জানালার কাচ ভেঙে ঢুকলেন দমকল কর্মীরা

এখনও নেভেনি আগুন। সোমবার মধ্যরাতেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেল বাগরি মার্কেটের একাধিক তলে। দমকলের কর্তা বা নেতা-মন্ত্রী, কেউই বলতে পারছেন না যে আগুন নিভে গিয়েছে। আগুন পুরোপুরি নেভার কোনও লক্ষণও দেখা যায়নি। বরং মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে কুণ্ডলী পাকানো কালো ধোঁয়ার বেরিয়ে আসা আগুনের অস্তিত্ব প্রমাণ করেছে। তবে এদিন এই জতুগৃহের বেশিরভাগ অংশে ঢুকে জল দিতে পেরেছেন দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। ফলে যে আগুন নিভতে আরও ৭২ ঘণ্টা লেগে যেতে পারে বলে রবিবার রাতে মনে হয়েছিল, তা আজ, মঙ্গলবার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন দমকলের কর্মীরা। কোথাও কোথাও ‘পকেট ফায়ার’ থেকে নতুন অংশে ফের আগুন ছড়াতে পারে— এমন আশঙ্কাও থাকছে। তাই পুরো বিল্ডিংয়ের সমস্ত অংশে জল পৌঁছে দিতে না পারা পর্যন্ত আগুন নেভার ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলেই মত দমকলের অভিজ্ঞ কর্তা-কর্মীদের।
আমড়াতলা লেন সংলগ্ন বাগরি মার্কেটের অংশে আগুন ও ধোঁয়ার হল্কা কমে যাওয়ার পর সেই দিকের জানালার রেলিং গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে এবং কাচ ভেঙে ভিতরে ঢোকেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। কাচের জানালা ভেঙে দেওয়ার পর ঘরের মধ্যে আটকে থাকা ধোঁয়া গলগল করে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। চারতলা পর্যন্ত কয়েকটি ব্লকের সব অংশে জল পৌঁছে দেওয়ার পর ব্যবসায়ী, কর্মচারীদের উঠতে অনুমতি দেওয়া হয়। এখনও পোড়েনি এরকম অনেক পণ্য তাঁরা সরাতে শুরু করেন। এসেছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনিও চারতলা পর্যন্ত উঠে পরিস্থিতি দেখেন। ছাদ পর্যন্ত অনেকে উঠলেও মন্ত্রী পোড়া গন্ধ আর ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে বেরিয়ে আসেন। এদিন ফিরহাদ সাহেবকে ঘিরে ধরে নানা অভিযোগের কথা শোনান ব্যবসায়ীরা। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁরা বাজারের মালিককে গ্রেপ্তার করার জন্য সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন। বাগরি মার্কেট সংলগ্ন বড়বাজার অবৈধ নির্মাণে ছেয়ে গিয়েছে এবং যথেচ্ছ বেআইনি মজুত চলছে বলেও খোদ মন্ত্রীর সামনে ক্ষোভ দেখান ব্যবসায়ীরা। মেয়র তথা দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় এলে তাঁকে ঘিরেও ব্যবসায়ীরা নানা ক্ষোভের কথা জানান। হাইড্রলিক ল্যাডার এনেও ফেলে রাখা হল কেন, মালিকপক্ষের ‘অত্যাচার’-এর খবর পুরসভা পায়নি কেন— এরকম অজস্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মেয়রকে।
আতঙ্ক ছড়িয়েছে খোদ বিল্ডিংটিকে নিয়েও। টানা জ্বলার পর বিল্ডিংয়ের দেওয়ালের বিভিন্ন অংশের ফাটল আরও চওড়া হয়েছে। চাঙড়ও খসে পড়ছে যখন-তখন। উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে পুলিস কৌতূহলী মানুষকে সরাতে গেলেই ‘বিল্ডিং পড়ে যাবে’ বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। এ বিষয়ে কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা বিল্ডিং বিভাগের ভারপ্রাপ্ত শোভনবাবু বলেন, আগুন আগে নিভুক। তারপর বিল্ডিং বিভাগের বিশেষজ্ঞরা এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। এদিনই ফরেন্সিকের একটি দল এসে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।
এদিন পাইকারি কেনাকাটা করতে বড়বাজারের অন্যত্র আসা অনেকেই একবার দেখতে এসেছেন বাগরি মার্কেট। স্মার্টফোনে ছবি, ভিডিও তোলা চলেছে দেদার। এই ভিড় সামাল দিতে পুলিসকে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেতে হয়।

sutro:Bortoman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জ্যাকেট খুলে তল্লাশি!

ইমতিয়াজ হাসান তানিম,ঢাকা:যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসিকে তল্লাশি করা হয়েছে। এক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ...

ব্রেকিং নিউজঃ