যে আশায় বসে আছে বিএনপি

প্রকাশিত: ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২

যে আশায় বসে আছে বিএনপি

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে তোড়জোড় চলছে। কিন্তু দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন এই কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে। বিএনপি রাষ্ট্রপতি সঙ্গে সংলাপে যোগদান করেনি। এমনকি অনুসন্ধান কমিটি তাদের কাছে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য যে নাম চেয়েছে, সে ব্যাপারেও সাড়া দেয়নি। অনুসন্ধান কমিটির চিঠির জবাব বিএনপি দেয়নি। বরং বিএনপির দুই নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং রুহুল কবীর রিজভী বারবার বলছেন যে, তারা নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে না। বিএনপি এটাও বলছে যে, এই নির্বাচন কমিশন কিভাবে গঠন হলো, কারা থাকলো, এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নাই, তারা এটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

বিএনপি বলছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। আর এ কারণেই নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া থেকে নিজেদেরকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখেছে। কিন্তু দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়। বিএনপি কেন এটি করছে? বিএনপি কেন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া অংশগ্রহণ করছে না? কারণ এই প্রক্রিয়াটি আগামী নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আগামী ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। কিন্তু বিএনপির এই অনীহার মধ্য দিয়ে শুরুতেই আমাদের গণতন্ত্র এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটা প্রশ্নের মুখোমুখি পড়ছে।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা অনেকগুলো ‘যদি’, ‘কিন্তু’, ‘তবে’র ওপর নির্ভর করছে এবং এখান থেকে তারা আশাবাদী হয়ে উঠছে। তারা মনে করছে, এই ‘যদি’, ‘কিন্তু’, ‘তবে’গুলো যদি ঘটে, তাহলে পরে আগামী নির্বাচন সরকারের পরিকল্পনায় হবে না। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কতগুলো ধারণার ওপর এই সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। তারা মনে করছে, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনে অনেকগুলো ঘটনা ঘটবে।

প্রথমত, অধিকাংশ বিএনপি নেতাদের ধারণা এবং বিশ্বাস যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরো চাপ দিবে এবং ২০১৪ বা ২০১৮ সালে যেভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন করেছিল, সেভাবে বাংলাদেশ আর নির্বাচন করতে পারবে না।

দ্বিতীয়ত, তারা মনে করছে যে, তারা যে তৎপরতা চালাচ্ছে সেই তৎপরতার অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর নানা ধরণের স্যাংশন বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। এর ফলে সরকার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়বে। বিএনপির ধারণা, সামনের দিনগুলোতে র‍্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খড়গ নেমে আসবে। বিশেষ করে, লেহি’তে স্বাক্ষর না দিলে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হবে এবং এটিতে সরকার অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়বে। ফলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এমন একটি পরিস্থিতি হবে, যেখানে সরকার চাইলেও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে পারবে না।

বিএনপির কোনো কোনো নেতা এটুকুও মনে করছেন যে, আগামী নির্বাচনে জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন ইত্যাদি ইস্যুর কারণে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে এ ধরণের ঘটনা ঘটবে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল শুধুমাত্র ষড়যন্ত্র করে এইসব দাবি আদায় করতে পারবে, এমনটি রাজনৈতিক পণ্ডিতরা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। কারণ একটি আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তৈরি না হলে কখনোই আন্তর্জাতিক মহল একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না বা করবে না। এই বোধটুকু সরিয়ে বিএনপি তার সমস্ত পরিকল্পনাগুলো করছে। আর এ কারণেই বিএনপি নিজেদেরকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে রেখেছে।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest