ঝালকাঠিতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২৪

ঝালকাঠিতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ১২৫নং বাইতারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধের দুর্নীতি ও অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

সম্প্রতি সুবিদপুর ইউনিয়নের মজকুনী গ্রামের ১৮ জন বাসিন্দার স্বাক্ষরিত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্তের জন্য দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুলাই) গৌরনদীর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র হাওলাদার ও বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলে কর্মরত থেকে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে তার পছন্দের লোকজনকে নিয়ে স্কুলের বিদ্যোৎসাহী কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটির সদস্যদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে লেখাপড়া করে না।

প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জোরপূর্বক কবির হাওলাদারের জমি দখল করে নিয়ে সেই জমির উপর একটি দোতলা ভবন নির্মান করছেন। ওই ভবনের ঠিকাদার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহীদুল ইসলাম এর সাথে যোগসাজসে নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মান কাজ করছেন। ঠিকাদারের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে স্কুল কমিটির সদস্যদের নিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। স্কুলের বিভিন্ন খাতে প্রাপ্ত সরকারী অর্থ তাহারা প্রধান শিক্ষককে নিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করিয়া নেন। স্কুলের কোন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করেন না। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, অর্থ বরাদ্ধ শুধু কাগজে কলমে হয়, সমুদয় টাকা সরকারের মন্ত্রী, এমপি, সচিব ও শিক্ষ্য অফিসারগণকে ভাগ বাটোয়ারা করিয়া দিয়ে দিতে হয়। তার উক্ত বক্তব্য সঠিক নয় মর্মে প্রকাশ করিলে মোঃ আল আমিন, লাভলী বেগমের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। উক্ত মিথ্যা মামলায় তার পক্ষে সাক্ষী না দিলে আঃ আজিজ খানকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে।এছাড়া সজিব খানের দোকানে অগ্নিসংযোগ করার ভয় দেখায়।

অত্র স্কুলের সহকারী শিক্ষকরাও সঠিক সময়ে স্কুলে আসেন না। ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিকভাবে পাঠদানের বিষয়ে শিক্ষকদের কোন গুরুত্ব নেই। এমনকি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহীদুল ইসলাম নিজেও ব্যক্তিগত কাজে স্কুলের বাহিরে থাকে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সঠিকভাবে ক্লাস করানোর পরিবর্তে তিনি স্কুলের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে নানা প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি করিয়া টাকা উর্পাজন করার মাস্টার প্লান নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কেহ উহার প্রতিবাদ করিলে তিনি সরকারের উপর মহলের আর্শীবাদপুষ্ঠ কেহ তাকে কিছু করিতে পারিবে না। তার ইচ্ছামত স্কুল ও এলাকার লোকজনকে চলিতে হইবে মর্মে দম্ভোক্তি করিয়া বেড়ান। সেই সুযোগে সহকারী শিক্ষকরা সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করিয়া বিভিন্ন অনিয়ম করেন। ফলে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা গ্রহণ হতে বঞ্চিত হন। স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা বিলম্বে কর্তব্যে হাজির হলেও স্কুল ছুটির সরকার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ছাত্র-ছাত্রীর ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা স্কুল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ভিত্তিহীন। যার প্রমান আমার কাছে রয়েছে, এগুলো উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়ে দিবো।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন,আমরা বাদী ও বিবাদীদের লিখিতো ও মৌখিক বক্তব্য নিয়েছি।এরপাশাপশি তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাগজ সংগ্রহ করেছি।তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো যাবে।


মুজিব বর্ষ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Pin It on Pinterest