নাটোরে বড়াইগ্রামে একই পরিবারে ৭ প্রতিবন্ধী, জীবন যুদ্ধে বিপাকে পরিবার

প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

নাটোরে বড়াইগ্রামে একই পরিবারে ৭ প্রতিবন্ধী, জীবন যুদ্ধে বিপাকে পরিবার

আবু মুসা নিজস্ব প্রতিবেদক। নাটােরের বড়াইগ্রামে একই পরিবারে সাঁত প্রতিবন্ধী, জীবন যুদ্ধে বিপাকে পরিবার। মিলেনি সকলের সরকারী সহায়তা। উপজেলার মাঝগ্রামের বৌবাজার এলাকার মৃত সায়েদ পাটােয়ারীর পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী। তারা হলাে হাসমতি বেওয়া (১০৩), পিঠে বড় কুঁজ, সােজা হয়ে দাঁড়াতে বা শুতে পারে না সে। বয়সের তুলনায় মাত্র ৩ ফুট ৬ ইঞ্চির দেহটি সামনের দিক বেঁকে থাকে। শুধু তিনিই নন, তার পরিবারের দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও দুই নাতি সহ সাত সদস্যর একই অবস্থা। উপজেলার অসহায় পরিবারটির বসবাস মাঝগ্রামে। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, মৃত সায়েদ আলীর স্ত্রী হাসমতি বেওয়ার দুই ছেলে আব্দুর রব (৭৫) ও মফিজ উদ্দিন (৫০), দুই মেয়ে বিলকিস (৬৫), ফুলবানু (৬২), নাতি সাগর (১৮) ও সাকিল (১০)। প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালে এরা সবাই শারীরিক প্রতিবন্ধী। বয়সের তুলনায় প্রত্যকই তারা স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় বেশ খাটাে। অল্প বয়সেই বয়স্র ছাপ পড়ে তাদের চেহারায়। স্বাভাবিক চলাফেরা করতে তাদের জন্য খুবই কষ্টকর। সােজা হয়ে দাঁড়াতে বা শুতে পারে না তারা। তাদের মধ্যে বড় আব্দুর রব ও মফিজ উদ্দিনের পিঠে রয়েছে বড় ধরণের কুঁজ। বিলকিসের উচ্চতা ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং ফুলবানুর উচতা ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি। তাদর দুই পা বাঁকা, দুই পায়ের পাতাও বাঁকা। হাঁটার সময়ে তারা হেলে-দুলে হাঁটে। পথ চলতে কষ্ট হয়। হাসমতি বেওয়ার নাতি সাগর কিছুটা সুস্থ হলেও মাজা ও পা বাঁকা। সে বনপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আর্থিক অভাবের কারণে তার লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে গেছে। ধীরে-ধীরে বাবার মতাে বাঁকা হয়ে যাচ্ছে তার শরীর। হাঁটা-চলা করতে পারলেও ঠিক মতাে বসতে পারে না। তার অপর নাতি শাকিল আহমেদ মাঝগ্রাম ব্র্যাক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। সে বলে আল্লাহ্ পাক যদি আমাক সুস্থ রাখেন, তাহলে আমি লেখা-পড়া করে আলােকিত মানুষ হতে চাই। পরিবারের প্রতিবন্ধী সকলের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমারও পিঠে মাঝে মাঝে ব্যাথা অনুভব করি। আমারও পিঠে ভবিষ্যত বাঁকা হয়ে যায় কিনা, এ মর্মে দুশ্চিন্তা করি। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধি হলেও সংসার চালানাের তাগিদে আব্দুর রব ও মফিজ বনপাড়া বাজারর ফুটপাতে বসে ফল ও বাদাম বিক্রি করে। দুই বােনের বিয়ে হলেও কিছুদিনের মধ্যই তালাক দায়ে তাদের স্বামী। বর্তমান দুই ভাইয়ের সাথেই বসবাস করছে দুই বােন ও মা। তারা কিছু হাঁস-মুরগী পালন করে নিজ বাড়িতে ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করে। প্রতিবন্ধী মফিজ উদ্দিন জানান, শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় ঠিকমতাে বাদাম বিক্রি করতে পারিনি। যখন সুস্থ থাকি, বাজারে গিয়ে বাদাম বিক্রি করি। অভাবের সংসার খেয়ে-নাখেয়ে দিন কাটে কােনাভাবে। আমার মা একজন বিধবা। এক শত বছরের উপর বয়স হয়েছে তার ও আমার প্রতিবন্ধী দুইটি বােনও বিধবা। আমার বােনেরা বিধবা ভাতা পায় না। ‘মা’ কােনাদিনই বিধবা বা প্রতিবন্ধী ভাতা পাননি। এ মুহুর্তে আমার মায়ের জন্য একটি হুইল চেয়ার দরকার। কি অভাব-অনটনের সংসার কিনে দিতে পারছি না। মাঝগ্রাম ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাে. আব্দুল আলীম জানান, বিষয়টি আমি অবগত আছি। পরিবারর সাতজন প্রতিবন্ধী থাকলেও চারজন প্রায় দুই বছর ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা ছয় মাস পরপর প্রতিজন ২১ শ’ টাকা পেয়ে থাকেন। বাকীগুলা প্রতিবন্ধী কার্ড না থাকায় তারা পাচ্ছে না। তবে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে তাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এ পরিবারের সকলকে সরকারী সহযােগিতা করার জন্য জাের দাবী করেছেন পরিবার ও এলাকাবাসী।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest