ঢাকা ৩১ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২১
হাবিবুর রহমান,হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
সব ধরনের শিক্ষপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে আজ ২৪ মে (সোমবার) সারাদেশের মতো দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার (২৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে সকাল ১১টায় সারাদেশের সাথে সমন্বয় রেখে একযোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের সাথে বিভিন্ন ব্যানারে লেখা ছিল, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের প্রাণ, করোনার অতুরঘর নয়” আমি মূর্খ,স্বাস্থ্য বিধি বুঝিনা কারন আমি ছাত্র”।
“অফিস আদালত শপিংমল খুলে গেলশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কেন!”
অবস্থান কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. ফজলুল হকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রফেসর বিধান চন্দ্র হালদার বরাবর ৪ টি দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন। এছাড়া ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দাবি না মানা হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৪টি দাবি জানানো হয়।
১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে আটকে থাকা সব সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা এর গ্রহণ করা হোক।
২. অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল খুলে দেওয়া হোক।
৩.অতিদ্রুত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা হোক।
৪.সেশনজটের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
এর আগে গতকাল রবিবার (২৩ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে ক্যাম্পাসের লাইব্রেরী চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিটিংয়ে উপস্থিত ছাত্র প্রতিনিধিরা জানান, সরকার করােনা সংক্রমণের অজুহাত দিয়ে বারবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বৃদ্ধি করছে। তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছাত্ররা বলেন, গত মার্চ মাসে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খােলার দাবিতে সারাদেশে জোরালাে আন্দোলন শুরু হয় তখন শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ১৭ মে হল ও ২৪ মে ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা-কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে এবং তার আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কিন্তু হাতে দু মাস সময় পেয়েও এখন পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনেনি। আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন অনিশ্চয়তার মুখে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অংশই নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। শিক্ষাজীবন শেষে পরিবারের হাল ধরতে হয়। এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্দশা চরমে পৌঁছেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া সামনে কোনো পথ খোলা নেই।
আজকের মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করা ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের লে-২সে-২ এর শিক্ষার্থী আবদুর রহমান আকাশ বলেন, যদি দেশের সবকিছু স্বাস্থবিধি মেনে খুলে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন নয়! শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড সেই মেরুদণ্ডকে আজ অবহেলা করা হচ্ছে। আমাদের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে হলেও আমাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত কর অনিতিবিলম্বে আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস খুলে পরীক্ষা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য করোনা পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘ ১৪ মাস যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে গত ১৭ মে আবাসিক হল ও আজ ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা থাকলেও ছুটির মেয়াদ আরো ১ মাস বৃদ্ধি করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রালয়ের একাধিক কর্মকর্তার আভাস মিলেছে।
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ Developed By Agragami HOST