খুলনা জেলা আ’লীগের প্রস্তাবিত কমিটি বিতর্ক, সর্বত্রই সমালোচনার ঝড়

প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

খুলনা জেলা আ’লীগের প্রস্তাবিত কমিটি বিতর্ক, সর্বত্রই সমালোচনার ঝড়

গোলাম মোস্তফা খান, খুলনা।
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। খুলনায় সাধারন ভোটার ও কর্মীরা ক্ষুব্দ, বইছে সমলোচনার ঝড়। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই গত রোববার রাতে খসড়া এই কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সব কর্মকান্ড ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানায়।

খসড়া ওই কমিটিতে পদ পেয়েছেন বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতারা, যাদের কোনদিন দলিয় মিটিং এ দেখা যায়নি। গত এক যুগ খুলনার রাজনীতিতে সক্রিয় নন, এমন নেতাও বড় পদ পেয়েছেন। সে ক্ষেত্রে বাদ পড়েছেন খুলনার আন্দোলন-সংগ্রামে পরিচিত অনেক মুখ। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার অনুসারীদেরও কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা কমিটির আংশিক সত্যতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ সুজিত কুমার অধিকারী। তিনি বলেন, পুরোনো ও ত্যাগীদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক সদস্য নন, এমন অনেকেই কমিটিতে বড় পদ পেয়েছেন। এক সাংসদের কোটায় পাঁচজন জায়গা পেয়েছেন, যাদের নাম কেউ কখনও শোনেনি। এসব বিষয়ে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নালিশ হবে বলে তিনি জানান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পৃথক তালিকা নিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যান জেলা সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ সুজিত কুমার অধিকারী। দুই দফায় মিটিং বসেও তারা একমত হতে পারেননি। ১৯ সেপ্টেম্বর তারা খুলনায় ফিরে আসেন। পরদিন রাতেই একটি খসড়া কমিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রস্তাবিত কমিটিতে বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা ও সাবেক সচিব প্রশান্ত কুমার রায়কে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা প্রকৌশলী প্রেম কুমার কে। তারা কখনোই খুলনা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদের স্ত্রী মেহের নিগার স্বপ্নাকে সদস্য করা হয়েছে। অথচ তাকে কখনও রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি।

কমিটিতে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন শেখ মনিরুল ইসলাম ও ডুমুরিয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন এজাজ আহমেদ। শেখ মনিরুল ইসলামকে সহ-সভাপতি এবং এজাজ আহমেদকে প্রস্তবিত কমিটিতে উপ-প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে। শেখ মনিরুল ইসলাম নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন, আর এজাজ চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছিলেন। নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে এজাজের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন এবিএম শফিকুল ইসলাম। তাকে কৃষি ও সমবায় সম্পাদক করা হয়েছে। খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অসিত বরণ বিশ্বাসকে করা হয়েছে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনেকে।দাকোপের দল না করা একেবারেই অপরিচিত ৫ জনকে কোটা হিসাবে নাম দেওয়ায় জেলা সদর ও ৯ টি উপজেলার ত্যাগিনেতা কর্মীরা ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া অব্যাহত রেখেছে


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest