নদীভাঙ্গনের কবলে পড়ে মানচিত্র হারাচ্ছে ব্রিটিশ আমলের নলছিটি পৌরসভা

প্রকাশিত: ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৯

নদীভাঙ্গনের কবলে পড়ে মানচিত্র হারাচ্ছে ব্রিটিশ আমলের নলছিটি পৌরসভা

নলছিটি প্রতিনিধি ঃ
গতকাল ২৩ নভেম্বর-২০১৯,সকাল ১০টায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় ও পিস প্রেসার গ্রুপ (পিপিজি) নলছিটি’র উদ্যোগে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিসি ব্লক নির্মান করে স্থানীয় ভাবে ভাঙ্গন ও জোয়ারের প্লাবন থেকে উপকূলীয় ভূমি রক্ষার দাবীতে গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নলছিটি মডেল সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও পিস প্রেসার গ্রুপ (পপিজি ) নলছিটি উপজেলা কমিটির কো-অডিনেটর মোঃ খলিলুর রহমান মৃধা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলছিটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ আলমগীর হোসেন আলো। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিপিজি নলছিটি উপজেলা কমিটির এম্বাসেডর মোঃ আনিসুর রহমান হেলাল ও তাজুল ইসলাম দুলাল চৌধুরী। প্রভাষক মোঃ আমির হোসেন এর সঞ্চালনায় এন এম এস এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ খলিলুর রহমানের লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বরিশাল বি এম কলেজের ইংরেজী বিভাগের ছ্ত্রাী মোসাঃ কনা আক্তার।

শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, নারী নেত্রী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগন সহ অর্ধ শতাধিক লোক গোল টেবিল বৈঠকে অংশ নেয়। বক্তারা বলেন, ১৯৭১সাল স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ ৪৮ বছরে অবিরাম রাক্ষসী সুগন্ধার ভাঙ্গনে পুরান বাজারটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরপর তিনবার স্থানান্তর করা হলে তিন বারই বিলীন হয়ে যায় বাজারটি। বর্তমানে খোজাখালী গ্রামটি নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় গ্রামের মানচিত্র হারিয়ে যায়। পৌরসভার সারদল, সূর্য্যপাশা মল্লিকপুর কাজী বাড়ি ও পুরান বাজার সিকদার পাড়া নদী ভাঙ্গনের কবলে পরে এলাকার শত শত একর সম্পত্তি নদী গর্ভে চলে যায়। নলছিটি- দপদপিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের মল্লিকপুর সূর্য্যপাশা ও সারদল এলাকা সুগন্ধা নদী হতে সড়কের দূরত্ব মাত্র ১৫/২০ ফুট।

যেকোন মুহুর্তে সওজ বিভাগের সড়কটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। সড়কটি নদীগর্ভে চলে গেলে নলছিটি উপজেলার সাথে বরিশাল বিভাগ ও ঝালকাঠি জেলার সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি আশংকা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫নং ধারায় নাগরিকের আশ্রয় নিশ্চিত করা সহ অন্যান্য মৌলিক অধিকার কথা উল্লেখ আছে । উপকূলীয় নদী ভাঙ্গন রোধে স্থানীয় নদী ভাঙ্গনের কবলে পরে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের বাঁচানোর দাবিতে গোল টেবিল বৈঠকে উপস্থিত সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের প্রস্তাবনায় বলেন, ঝালকাঠি নলছিটি পৌর সভার রক্ষার জন্য নলছিটি পুরান বাজার সিকদার পাড়া হতে সারদল ইউনুস বিশ্বাসের বাড়ি পর্যন্ত মোট ২ কিলোমিটার সিসি ব্লক ফেলে জরুরী ভিওিতে বাঁধ নির্মান করতে হবে।

এ বাঁধ নির্মানে আপাদত ১ শত ৭১ কোটি টাকা প্রয়োজন। নদীর তলদেশ থেকে তীরের উচ্চতা পর্যন্ত ব্লক স্থাপন করে নদীর তীর রক্ষা করা ও একই সাথে ব্লকসমেত রিং বাঁধ দিতে হবে যাতে জোয়ারের পানি ঢুকতে না পারে। এ পদ্ধতিতে নলছিটি পৌরসভাকে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় সচ্ছতা প্রতিষ্ঠা ও সিস্টেম লস কমালেঃ পানি উন্নয়ন বোর্ড দুর্নীতি মুক্ত হলে এবং টেন্ডারিং ব্যবস্থার সচ্ছতা থাকলে মোট খরচের চেয়ে কমপক্ষে ২০% কম খরচে নদী ভাঙ্গন রক্ষার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে। সেনাবাহিনীকে কাজে যুক্ত করাঃ সভায় জনপদ বিভাগের রাস্তাটি রক্ষার বাঁধ নির্মান কর্মকান্ডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তাটি রক্ষায় বাঁধ নির্মান কর্মকান্ডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারদের পাশাপাশি দ্রুততম সময় কাজ শেষ করতে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল ইউনিটকে যুক্ত করতে হবে। যাতে তুলনা করা যায় কোন ব্যবস্থা পনায় কাজ টেকসই হয়। প্রকল্পের বরাদ্দ একনেক বৈঠকে পাশ করে জনগনের প্রকাশ ও প্রচার করার ব্যবস্থা করা এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সুযোগ নিশ্চিত করা। কাজ শুরুর পুর্বে এবং কাজ আসার সময় উপকরন মান, পদতি, সময় ব্যাজেট ইত্যাদি বিষয় সকল তথ্য উন্মুক্ত রাখা এবং প্রকল্পের তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহার সহজ করা যাতে জনগন চাইলেই যেকোন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ধরতে পারে ও অভিযোগ করতে পারে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

ইতোপূর্বে যারা নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা। নদী ভাঙ্গন এলাকার পার্শ্ববর্তী যেগে ওঠা চড় যেমন মালিপুর চর ও মগড় মৌজার চর স্থানীয় ধনী ও প্রভাবশালীদের নামে বেনামে বরাদ্দকৃত লিচ বাতিল করে নদী ভাঙ্গন ভ’মিহীনদের মাঝে বরাদ্ধ দিতে হবে। তাদের সরকারী চাকুরী ও বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা সহ সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ঝালকাঠি পানি উন্নায়ন বোর্ড কর্মকতার নিকট নদীভাঙ্গন রোধে তাদের পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে এ প্রতিবেদক কে জানান, ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ১ শত ৭১ কোটি টাকার বরাদ্ব চেয়ে চাহিদা পত্র প্রদান করা হয়েছে।


মুজিব বর্ষ

Pin It on Pinterest