ঢাকা ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২১
বরগুনা প্রতিনিধি ঃ
বরগুনা জেলা কারাগারের বাহির ক্যান্টিনে দ্বিগুন দামে মালামাল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। রান্না করা ১কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৩শ টাকা ও এক কেজি গরুর মাংসের দাম ১৮শ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে অভিযোগ কারাবরণ করে জামিনে বের হয়ে আসা লোকজনের। এ ছারাও একপিস ডিম বিক্রি হয় ৬০ টাকায়। এক পিস পাঙ্গাস মাছ ১০০ টাকায়, ৫০ টাকার এক প্যাকেট বেকারী বিস্কুট ১০০ টাকা দামে বিক্রি হয় বলেও অভিযোগ তাদের। এছাড়া ১ টি গরুর মাথা ডাল দিয়ে রান্না করে ১০ হাজার টাকা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে এবং সেটা সকল আসামি দের বাধ্য করা হয়েছে কিনতে।
জেলখানায় রান্না ঘরের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে দুলাল নামের ৩০ বছরের সাজা প্রাপ্ত এক আসামীকে তাকে ম্যানেজ করে তাকে দিয়ে সাধারণ আসামিদের খাবার চুরি করে জেলার ইউসুফ। এজন্য দুলাল সবসময় রান্না ঘরের দায়িত্বে থাকেন তার বিরুদ্ধে সাধারণ আসামিরা অভিযোগ দেয়ার পরেও তাকে অন্য কোনো দায়িত্বে দেয়া হয়না। এজেনো এক জেলার ইউসুফ এর একক রাজত্ব বরগুনার জেলখানা।
জামিনে বের হয়ে আসা আসামীদের এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবী করেছে জেলার। তবে জেল সুপার বলছেন, কারাগারে চা-পরাটা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। আর জেলা প্রশাসকের দাবী কারাগারে থাকা মানুষদের উপর কোনো অনিয়ম সহ্য করবে না প্রশাসন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে গত ৩০ এপ্রিল গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যায় বামনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোনাখালী এলাকার একজন কারাগারে গিয়ে সব খাবার সামগ্রীর দ্বিগুনর অধিক দামে ক্রয় করতে হয়েছে তার। সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে বুধবার (৩০ জুন) তিনি বলেন, কারাগারে খাবারের মান খুবই নিম্ন। ভাত থেকে দূর্গন্ধ আসে। একদিন মাছ রান্না করে। একদিন মাংস রান্না করে। তবে নামে মাত্র মাছ আর মাংস রান্না করেন কারা কর্তৃপক্ষ। মাছ-মাংস শুধু নামেই, বাস্তবে দেখা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে খাবার কিনে খেতে হয়। কারাগারের কেন্টিনে এক কেজি ব্রয়লার মুরগী রান্না করে বিক্রি করে ১৩শ টাকায়। রান্না করার পর সেই এক কেজি মুরগী তাদের দেয়া হয় না। তা থেকেও অন্যদের কাছে বিক্রি করে। আমি বাধ্য হয়ে ৬ জনকে সাথে নিয়ে খাবার কিনতাম। গরুর মাংসের দাম রাখা হয় ১৬শ টাকা। এক কাপ রং চা ১০ টাকা। একটি পরাটা(সাইজে ছোটো) ১০টাকা।
তিনি আরও বলেন, কারাগারে প্রত্যেক মানুষ এমন দ্বিগুন অধিক দামে খাবার ক্রয় করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে অনাহারে রেখে মারধার করা হয়। কারাগারের মধ্য মানুষ অসহায় অবস্থায় আছে। বাহির থেকে দেখলে কেউ অনুভব করতে পারবে না।
সম্প্রতি জামিন বের হয়ে আসা আরেক আসামী বামনার মিজানুর রহমান বলেন, কারাগারের ক্যান্টিনে সব কিছুর দাম ডাবল। আমি অবাক হয়েছি। প্রতিদিন চড়া দামে ক্যান্টিন থেকে খাবার বিক্রি করে মাসে অন্তত ২০ লাখ টাকা বানিজ্য করে জেলার। ২৫ টাকার কোমল পানীয় বিক্রি করে ৫০ টাকায়। ৫০ টাকার এক প্যাকেট বেকারি বিস্কুট তারা বিক্রি করে ১০০ টাকা। এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট ৪৫০ টাকা গোল্ডলিফ সিগারেট ৩৫০ টাকা বিড়ি ৫০ টাকা পান ১০০ টাকা চলি, ১০ টাকার জর্দা ৩০ টাকা,রান্না করা সরকারি খাবারের মান এতো খারাপ যে মুখে নিলে বমি চলে আসে। বদ হজম হয়। জেলা প্রশাসক পরিদর্শনে আসলে শুধু ওই দিন মোটামুটি খাবার উপযোগী থাকে। কারাগারে মানুষ যে কতোটা অসহায় তা বলে বুঝানো যাবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জেলার ইউসুফ তার স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে জমিয়েছেন অনেক টাকা ও বিভিন্ন জায়গায় কিনেছেন জমি।জামিনে বেরহওয়া আসামি ও তার স্বজনের দাবী জেলার ইউসুফ কে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসা করাহলে বেরিয়ে আসতে পারে চট্টগ্রাম সেই জেলারের মতো আরো অনেক কিছু।
জামিনে বের হওয়া হাজতি আসামি আজিম বলেন, সরকারিভাবে দেয়া খাবারের মান খুবই খারাপ। নামেমাত্র খাবার দেয় তারা। যাতে হাজতীরা বাধ্য হয় ক্যান্টিন থেকে খাবার ক্রয় করতে। তবে ক্যান্টিনের খাবার ক্রয় করতে গেলে গলাকাটার মতো অবস্থা হয়। এক কেজি ব্রয়লার ১৩শ টাকা। এমন সব পণ্যের দাম দ্বিগুন। হাজতি আসামিদের দিয়ে জোর করে কাজ করানো হয় তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় এসবের প্রতিবাদও করা যায় না তাহলে তার উপর চালানো হয় নির্যাতন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বরগুনা জেলা কারাগারে জেলার ইফতেখার ইউসুফ বলেন, ঠিক আছে ভাই আপনি আমার অফিসে আইসেন সরাসরি কথা বলব। এটা আমার জেলখানার ডাক্তার আছে ওর সাথে একটু ঝামেলা হয়েছিল ও এই এই মিথ্যা তথ্য দিয়ে আপনাদের বিভ্রান্তি করছে। আপনি অফিসে আইসেন কথা হবে।
এ বিষয়ে বরগুনা জেল সুপার নাজমুল হোসেন বলেন, আমার কাছে তো কোন প্রমান নেই যে আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। যদি ভিতরে আসামিদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়া হয়, সেই বন্দীরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করুক আমি ব্যবস্থা নেব। কেউ যদি প্রমান সহকারে আমার কাছে অভিযোগ না করে তাহলে আমি কিভাবে ব্যবস্থা নেব।
এবিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক ডিসি হাবিবুর রহমান জানান, এবিষয় আমার জানা ছিল না। আমি জেলার কে ডাকবো এবং তদন্ত করবো। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ Developed By Agragami HOST